আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি
বরগুনার আমতলী এমইউ বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. শাহ আলম কবিরের বিরুদ্ধে বিদ্যালয়ের বই ও আসবাবপত্র পুড়িয়ে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। সোমবার দুপুরে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আগুন দিয়ে এসব বই পুড়িয়ে ফেলা হয় বলে অভিযোগ করেছেন শিক্ষক, কর্মচারী ও শিক্ষার্থীরা। ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিদ্যালয়ের একটি ভবনে গত প্রায় ২০ বছরের নতুন-পুরাতন বই এবং কিছু আসবাবপত্র সংরক্ষণ করা ছিল। সোমবার দুপুরে প্রধান শিক্ষক প্রশাসন বা বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটির অনুমোদন ছাড়াই সেগুলোতে আগুন দেন বলে অভিযোগ রয়েছে। আগুনের ধোঁয়ায় বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে।
শিক্ষার্থী লামিয়া ও জান্নাতি অভিযোগ করে বলেন, বিদ্যালয়ের অনেক নতুন ও পুরাতন বই আগুন দিয়ে পুড়িয়ে ফেলা হয়েছে। এতে তারা বিস্ময় ও ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন শিক্ষক দাবি করেন, কাউকে না জানিয়ে প্রধান শিক্ষক বই পুড়িয়ে ফেলেছেন। তাদের অভিযোগ, প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ এবং দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) মামলা চলমান রয়েছে। দুর্নীতির কোনো আলামত নষ্ট করার উদ্দেশ্যে বই ও অন্যান্য সামগ্রী পুড়িয়ে ফেলা হয়ে থাকতে পারে বলে তারা সন্দেহ প্রকাশ করেন। তবে এ অভিযোগের পক্ষে কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি।
অভিযোগের বিষয়ে প্রধান শিক্ষক মো. শাহ আলম কবির বলেন, “উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু পুরাতন বই ও অপ্রয়োজনীয় আসবাবপত্র পুড়িয়ে ফেলা হয়েছে। কোনো নতুন বই পোড়ানো হয়নি।”
তবে বই ও আসবাবপত্র ধ্বংসের আগে প্রশাসন বা বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটির অনুমোদন নেওয়া হয়েছিল কি না—এ প্রশ্নের সুনির্দিষ্ট জবাব তিনি দেননি।
এ বিষয়ে আমতলী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের সুপারভাইজার মো. গোলাম মাহমুদ সেলিম বলেন, “বই পুড়িয়ে ফেলার বিষয়ে প্রধান শিক্ষক আমাকে বা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে অবহিত করেননি।”
আমতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মো. আশরাফুল ইসলাম বলেন, “বিষয়টি নিয়ে মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
ঘটনার প্রকৃত কারণ ও বই পুড়িয়ে ফেলার বৈধতা যাচাইয়ে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন বিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মচারী ও সচেতন মহল।

