নিজস্ব প্রতিবেদক, গাজীপুর
‘গবেষণা, উদ্ভাবন, উন্নয়ন ও সমৃদ্ধি’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (গাকৃবি) ‘গাকৃবির উদ্ভাবিত প্রযুক্তির পরিচিতিকরণ’ শীর্ষক বিশেষ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্টারন্যাশনাল কমপ্লেক্সের সেমিনার কক্ষে বহিরাঙ্গন কেন্দ্রের উদ্যোগে এ সেমিনারের আয়োজন করা হয়।
সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. জিকেএম মোস্তাফিজুর রহমান। বিশেষ অতিথি ছিলেন ট্রেজারার প্রফেসর ড. মো. সফিউল ইসলাম আফ্রাদ এবং গবেষণা পরিচালক প্রফেসর ড. মো. মসিউল ইসলাম। সভাপতিত্ব করেন বহিরাঙ্গন কেন্দ্রের পরিচালক প্রফেসর ড. ফারহানা ইয়াসমিন।
অনুষ্ঠানে গাজীপুর সদর ও শ্রীপুর উপজেলার কৃষি, প্রাণিসম্পদ ও মৎস্য বিভাগের কর্মকর্তাদের পাশাপাশি বদনিভাঙ্গা ও পাজুলিয়া গ্রামের ৪০ জন কৃষক-কৃষাণী, খামারি ও উদ্যোক্তা অংশগ্রহণ করেন।
সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করে প্রফেসর ড. ফারহানা ইয়াসমিন বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভাবিত বিভিন্ন কৃষি প্রযুক্তি, উন্নত জাত, আধুনিক উৎপাদন কৌশল, কৃষি যান্ত্রিকীকরণ, জলবায়ু সহনশীল প্রযুক্তি এবং গবেষণাভিত্তিক উদ্ভাবনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। তিনি বলেন, এসব প্রযুক্তি মাঠপর্যায়ে প্রয়োগের মাধ্যমে উৎপাদন ব্যয় কমানো, ফলন বৃদ্ধি এবং কৃষকের আয় বাড়ানোর উল্লেখযোগ্য সম্ভাবনা রয়েছে।
পরে গবেষণা পরিচালক প্রফেসর ড. মো. মসিউল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের মৌলিক ও প্রায়োগিক গবেষণা এবং গবেষণালব্ধ প্রযুক্তি সম্প্রসারণে গাকৃবির অবদান তুলে ধরেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য প্রফেসর ড. জিকেএম মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা শুধু গবেষণাগার বা প্রকাশনায় সীমাবদ্ধ থাকলে তার পূর্ণ মূল্যায়ন হয় না। প্রকৃত সার্থকতা তখনই আসে, যখন সেই উদ্ভাবন কৃষকের মাঠে পৌঁছে উৎপাদন বাড়ায়, ব্যয় কমায় এবং মানুষের জীবনমান উন্নয়নে ভূমিকা রাখে। এ লক্ষ্যেই গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় গবেষণাকে সমাজের প্রয়োজনের সঙ্গে যুক্ত করতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।”
সেমিনারের শেষ পর্বে অংশগ্রহণকারী কৃষক ও উদ্যোক্তারা মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতা, বিভিন্ন সমস্যা এবং প্রযুক্তি গ্রহণে প্রয়োজনীয় সহায়তার বিষয় তুলে ধরেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক ও বিশেষজ্ঞরা তাদের প্রশ্নের উত্তর দেন এবং প্রযুক্তির কার্যকর ব্যবহার সম্পর্কে প্রয়োজনীয় পরামর্শ প্রদান করেন।
পরে অংশগ্রহণকারীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা কার্যক্রম, উদ্ভাবিত প্রযুক্তি এবং গবেষণা মাঠ পরিদর্শন করেন। এর মধ্য দিয়ে সেমিনারের সমাপ্তি ঘটে।

