যশোর প্রতিনিধি
যশোর শহরের উপকণ্ঠে সদর উপজেলার ধর্মতলা এলাকায় গড়ে উঠেছে ব্যতিক্রমধর্মী একটি কৃষি খামার। ‘অ্যাডামস অ্যাগ্রো ফার্ম’ নামের এ খামারে রয়েছে ৭৫ প্রজাতির আমসহ দেশি-বিদেশি নানা ফলের গাছ, মাছের চাষ এবং হাঁস-মুরগির সমন্বয়ে গড়ে ওঠা একটি বহুমুখী কৃষি উদ্যোগ।
খামারটির উদ্যোক্তা আব্দুল্লাহ মো. হোসেন মাসুদ জানান, বাবা-মায়ের স্মৃতি সংরক্ষণ এবং তাদের স্বপ্ন বাস্তবায়নের লক্ষ্যেই পরিবারের সদস্যরা এই খামার গড়ে তুলেছেন। ছয় বিঘারও বেশি জমিতে প্রতিষ্ঠিত এ ফার্মে ছোট-বড় মিলিয়ে প্রায় ৮৫০টি আমগাছ রয়েছে। দেশি ও বিদেশি মিলিয়ে ৭৫ প্রজাতির আমের পাশাপাশি কাঁঠাল, জাম, লিচু, সফেদা, বেল, কতবেল, পেয়ারা, করমচা, ফলসা, খেজুর, তাল, জলপাই, গাব এমনকি আপেল গাছও রয়েছে।
খামারের দুটি পুকুরে রুই, কাতলা, মৃগেল, সিলভার কার্প, পাঙাশ, শিং, মাগুর, কৈ, সরপুঁটি, থাই সরপুঁটি, বাইনসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ চাষ করা হচ্ছে। এছাড়া রয়েছে প্রায় ১০০টি পাতিহাঁস, ১৯টি রাজহাঁস এবং ৩০০টির বেশি দেশি মুরগি।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উদ্ভিদবিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করা আব্দুল্লাহ মো. হোসেন মাসুদ জানান, ২০১৩ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে একটি বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানে কর্মরত অবস্থায় বিভিন্ন জাতের ফলের চারা দেখে অনুপ্রাণিত হন। পরে বড় ভাইয়ের সহযোগিতায় দেশ-বিদেশের বিভিন্ন জাতের আমের চারা সংগ্রহ করে নিজ বাড়িতে রোপণ শুরু করেন। বর্তমানে সেই গাছ থেকেই কলম তৈরি করে নতুন চারা উৎপাদন করা হচ্ছে।
খামারে আম্রপালি, ল্যাংড়া, হাড়িভাঙ্গা, আলফানসো, মিয়াজাকি, আমেরিকান কেন্ট, থাই কাটিমন, কেশর, তোতাপুরি, চোষা, রেড আইভরি, নীলাম্বরি, মল্লিকা, সুইট টার্ট, নাগ ফজলি, রেড চিয়াংমাইসহ দেশি-বিদেশি অসংখ্য জাতের আম রয়েছে।
আব্দুল্লাহ মো. হোসেন মাসুদ বলেন, “আমাদের মূল লক্ষ্য দেশি-বিদেশি ফলের জাত সংগ্রহ ও সংরক্ষণ, মানসম্মত চারা উৎপাদন, শিক্ষামূলক প্রদর্শনী ও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা এবং ভবিষ্যতে উৎপাদিত ফল দেশীয় চাহিদা পূরণের পাশাপাশি বিদেশে রপ্তানি করা। একই সঙ্গে বাবা-মায়ের সম্পত্তি ও স্মৃতিকে সংরক্ষণ করাও আমাদের অন্যতম উদ্দেশ্য।”
যশোর হর্টিকালচার সেন্টারের উপ-পরিচালক দীপঙ্কর দাশ বলেন, “যশোরে এত বৈচিত্র্যময় আমের সংগ্রহ আর কোথাও নেই। আমাদের হর্টিকালচার সেন্টারে ৫৩ প্রজাতির আম থাকলেও এই খামারে রয়েছে ৭৫ প্রজাতি। বিভিন্ন স্থান থেকে সংগ্রহ করা এসব গাছের পরিচর্যায় আমরা নিয়মিত প্রযুক্তিগত সহায়তা দিয়ে থাকি।”

