সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি
সিরাজগঞ্জের আলোচিত পলাশ প্রামাণিক হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দুই প্রধান আসামি আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। এ মামলায় এজাহারভুক্ত সাত আসামির মধ্যে দুই নারীসহ ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
জবানবন্দি দেওয়া দুই আসামি হলেন সদর উপজেলার কড্ডা কৃষ্ণপুর গ্রামের হাফিজুর রহমানের ছেলে হৃদয় শেখ (২০) এবং কালিয়া হরিপুর গ্রামের দেলবার হোসেনের ছেলে মো. জুয়েল শেখ (৩১)। নিহত পলাশ প্রামাণিক (২৫) কামারখন্দ উপজেলার বড়পাকুরিয়া গ্রামের পাশান প্রামাণিকের ছেলে।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও সিরাজগঞ্জ সদর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. সোহাগ জানান, গত ১২ জুন রাতে ধার করা টাকা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে কালিয়া হরিপুর গ্রামে জুয়েল শেখের বাড়িতে একটি সালিস বৈঠক বসে। বৈঠকের একপর্যায়ে জুয়েল ও হৃদয় ধারালো অস্ত্র দিয়ে পলাশকে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করেন।
গুরুতর আহত পলাশকে প্রথমে সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতালে এবং পরে বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে ১৩ জুন ভোরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় নিহতের বাবা পাশান প্রামাণিক বাদী হয়ে সাতজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও চার থেকে পাঁচজনকে আসামি করে সিরাজগঞ্জ সদর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।
এসআই সোহাগ জানান, ঘটনার রাতেই অভিযান চালিয়ে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে র্যাবের সহায়তায় ঢাকায় আত্মগোপনে থাকা মনজেলা খাতুনকে ২৯ জুন এবং প্রধান দুই আসামি হৃদয় শেখ ও জুয়েল শেখকে ৩০ জুন জয়পুরহাট থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। বর্তমানে গ্রেপ্তার ছয় আসামিই কারাগারে রয়েছেন।
তিনি আরও জানান, গত ১ জুলাই আদালতে হাজির করা হলে হৃদয় শেখ ও জুয়েল শেখ হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন। অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সুমন কুমার কর্মকার তাদের জবানবন্দি রেকর্ড করেন।

