মনিরামপুর (যশোর) প্রতিনিধি
দারিদ্র্য বিমোচন, আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জীবনমান উন্নয়নের লক্ষ্যে যশোরের মনিরামপুরে অসহায় ও দুস্থ পরিবারের মাঝে বিনামূল্যে ছাগল বিতরণ করা হয়েছে।
বিশেষ বরাদ্দ ২০২৫–২০২৬ প্রকল্পের আওতায় মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সকালে উপজেলার আশ্রয়ন সেবা সংস্থা (এএসএস)-এর কার্যালয় প্রাঙ্গণে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আশ্রয়ন সেবা সংস্থার নির্বাহী পরিচালক সুরাইয়া নার্গিস। প্রধান অতিথি ছিলেন বিশিষ্ট লেখক ও গবেষক এম. নূরুন্নবী। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন প্রকল্প সমন্বয়কারী লাভলী খাতুন।
বাংলাদেশ এনজিও ফাউন্ডেশনের অর্থায়নে এবং আশ্রয়ন সেবা সংস্থার বাস্তবায়নে আয়োজিত এ কর্মসূচির আওতায় উপজেলার ৩০টি অসহায় পরিবারের হাতে একটি করে মোট ৩০টি ছাগল তুলে দেওয়া হয়েছে। পর্যায়ক্রমে আরও ২০টি পরিবারকে এ সহায়তা দেওয়া হবে।
সভাপতির বক্তব্যে সুরাইয়া নার্গিস বলেন, “আশ্রয়ন সেবা সংস্থা প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে। আমাদের লক্ষ্য শুধু অনুদান দেওয়া নয়, বরং এমন টেকসই সহায়তা নিশ্চিত করা যাতে একজন সুবিধাভোগী নিজ উদ্যোগে আয় করতে পারেন এবং পরিবারের অর্থনৈতিক ভিত্তি শক্তিশালী করতে সক্ষম হন।”
তিনি আরও বলেন, “মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনে দানের চেয়ে সক্ষমতা সৃষ্টি বেশি গুরুত্বপূর্ণ। সেই লক্ষ্য নিয়েই সংস্থাটি বিভিন্ন প্রশিক্ষণ, কর্মসংস্থান ও আয়বর্ধক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে।”
প্রধান অতিথি এম. নূরুন্নবী বলেন, “সমাজের প্রকৃত উন্নয়ন তখনই সম্ভব, যখন উন্নয়নের সুফল প্রান্তিক মানুষের কাছে পৌঁছে যায়। একটি ছাগল সঠিক পরিচর্যা ও পরিকল্পনার মাধ্যমে একটি পরিবারের অর্থনৈতিক অবস্থার ইতিবাচক পরিবর্তন ঘটাতে পারে।”
তিনি উপকারভোগীদের ছাগলগুলো যথাযথভাবে লালন-পালনের আহ্বান জানিয়ে বলেন, এর মাধ্যমে ভবিষ্যতে পরিবারের আয় বৃদ্ধি, পুষ্টি নিশ্চিতকরণ এবং দারিদ্র্য হ্রাসে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা সম্ভব।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বাংলাদেশ এনজিও ফাউন্ডেশনের এ উদ্যোগের প্রশংসা করেন এবং সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি ও উন্নয়ন সংস্থাগুলোকে অসহায় মানুষের কল্যাণে আরও এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
ছাগল পেয়ে উপকারভোগীরা আনন্দ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে জানান, এই সহায়তা তাদের স্বাবলম্বী হওয়ার নতুন আশা জাগিয়েছে। তারা ছাগল পালন করে পরিবারের আর্থিক অবস্থার উন্নয়নে কাজ করবেন বলেও জানান।
অনুষ্ঠানে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধি, উপকারভোগী পরিবারসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

