কুবি প্রতিনিধি
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুবি) নিরাপদ ও পুষ্টিকর খাদ্য নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ‘ক্যাম্পাস ফুড সেফটি অ্যাওয়ারনেস’ শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সকাল ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের সম্মেলন কক্ষে এ সেমিনারের আয়োজন করা হয়।
অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. এম. আমিনুল ইসলাম আকন্দের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম এম শরীফুল করিম। বিশেষ অতিথি ছিলেন কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সোলায়মান। কী-নোট স্পিকার হিসেবে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ খাদ্য নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষের সদস্য ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শোয়েব। এছাড়া ছাত্রপরামর্শক ও নির্দেশনা দপ্তরের পরিচালক সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগম এবং কাজী নজরুল ইসলাম হলের প্রভোস্ট সহযোগী অধ্যাপক মো. হারুন উপস্থিত ছিলেন।
সেমিনারের শুরুতে আবাসিক হলের শিক্ষার্থীরা হলের খাবারের সংকট, মান ও বৈচিত্র্যের অভাবের বিষয়টি তুলে ধরে খাবারের মানোন্নয়নে ভর্তুকির দাবি জানান।
বক্তারা বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে নিরাপদ ও পুষ্টিকর খাদ্য নিশ্চিত করতে শিক্ষার্থী, প্রশাসন, হল কর্তৃপক্ষ ও খাদ্য বিক্রেতাদের সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। খাদ্য প্রস্তুত, সংরক্ষণ ও পরিবেশনের প্রতিটি ধাপে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা, নিয়মিত তদারকি, বিক্রেতাদের প্রশিক্ষণ এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে খাদ্য নিরাপত্তা বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সোলায়মান বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ে নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে ফুড সেফটি নীতিমালা প্রণয়নের কাজ চলছে। পাশাপাশি বিক্রেতাদের প্রশিক্ষণ, সঠিক খাদ্য সংরক্ষণ, নিরাপদ পানি নিশ্চিতকরণ এবং স্থায়ী ফুড সেফটি কমিটি গঠনের মাধ্যমে নিয়মিত তদারকির উদ্যোগ নেওয়া হবে।”
কী-নোট স্পিকার অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শোয়েব বলেন, “নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে উৎপাদন থেকে পরিবেশন পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে সতর্কতা জরুরি। খাদ্যে ভেজাল, দূষণ, ভুল সংরক্ষণ ও অপরিচ্ছন্ন পরিবেশ স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করে। তাই ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা, সঠিক খাদ্য সংরক্ষণ ও নিরাপদ খাদ্য ব্যবহারের বিষয়ে সবাইকে সচেতন হতে হবে।”
প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম এম শরীফুল করিম বলেন, “ক্যাম্পাসে নিরাপদ ও পুষ্টিকর খাবার নিশ্চিত করতে একটি সমন্বিত কাঠামো তৈরি করা হয়েছে। নিয়মিত ক্যান্টিন ও ডাইনিং পরিদর্শনের জন্য বিশেষ পর্যবেক্ষক দল গঠন করা হবে। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের মেস ও ক্যাম্পাসের বাইরের খাদ্যব্যবস্থাও পর্যায়ক্রমে তদারকির আওতায় আনা হবে।”
সভাপতির বক্তব্যে অধ্যাপক ড. এম. আমিনুল ইসলাম আকন্দ বলেন, “সংশ্লিষ্ট সবার সম্মিলিত উদ্যোগ ও দায়িত্বশীলতার মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি হলের খাবারের মান আরও উন্নত করা সম্ভব।”

