দৌলতপুর (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি
কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার পদ্মার বিস্তীর্ণ চরে চিনাবাদাম চাষ করে এবারও সফলতা পেয়েছেন কৃষকরা। কম খরচ, অল্প সময়ে উৎপাদন এবং ভালো বাজারদরের কারণে চরাঞ্চলের কৃষকদের কাছে বাদাম এখন লাভজনক অর্থকরী ফসলে পরিণত হয়েছে। অধিকাংশ কৃষক ইতোমধ্যে বাদাম ঘরে তুলেছেন, আর কেউ কেউ এখনও ক্ষেত থেকে বাদাম সংগ্রহ ও শুকানোর কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি রবি মৌসুমে রামকৃষ্ণপুর, চিলমারী, মরিচা ও ফিলিপনগর ইউনিয়নের চরাঞ্চলে প্রায় ৪৫০ হেক্টর জমিতে চিনাবাদামের আবাদ হয়েছে। যদিও গত বছরের তুলনায় প্রায় ৩০০ হেক্টর জমিতে আবাদ কমেছে, তবুও উৎপাদন ও লাভে সন্তুষ্ট কৃষকরা।
কৃষকদের মতে, প্রতি বিঘা জমিতে বাদাম চাষে খরচ হয়েছে মাত্র ৫ থেকে ৬ হাজার টাকা। আর উৎপাদন হয়েছে ৬ থেকে ৮ মন। বর্তমানে প্রতি মন বাদাম ৪ হাজার ৫০০ থেকে ৪ হাজার ৮০০ টাকা দরে বিক্রি হওয়ায় উৎপাদন খরচ বাদ দিয়েও তিন থেকে চার গুণ পর্যন্ত লাভ করছেন তারা।
বাদাম চাষের পাশাপাশি স্থানীয় শ্রমিকদের কর্মসংস্থানও বেড়েছে। ক্ষেত থেকে বাদাম তোলা, ঝাড়াই-বাছাই ও শুকানোর কাজে নারী-পুরুষের পাশাপাশি শিশুরাও অংশ নিচ্ছে। মৌসুমি শ্রমিকরা প্রতিদিন ৪০০ থেকে ৮০০ টাকা পর্যন্ত আয় করছেন।
রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের চরপাড়া গ্রামের বাদাম চাষি সোহেল আহমেদ আলম বলেন, “মাত্র তিন মাসে ফসল ঘরে তোলা যায়। এবারও প্রতি বিঘায় ৬ থেকে ৮ মন বাদাম পেয়েছি। সব খরচ বাদ দিয়েও ভালো লাভ হয়েছে।”
দিনমজুর বিল্লাল হোসেন বলেন, “বাদাম তোলার মৌসুমে প্রতিদিন ৪০০ থেকে ৮০০ টাকা পর্যন্ত আয় করছি। নারী ও শিশুরাও কাজ করায় অনেক পরিবারের বাড়তি আয়ের সুযোগ তৈরি হয়েছে।”
দৌলতপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ রেহানা পারভীন জানান, কৃষি বিভাগের প্রণোদনা, উন্নত জাতের বীজ সরবরাহ এবং নিয়মিত কারিগরি পরামর্শের কারণে এ বছর বাদামের ভালো ফলন হয়েছে। তবে চরাঞ্চলে অন্যান্য ফসলের আবাদ বাড়ায় গত বছরের তুলনায় বাদামের আবাদ কিছুটা কমেছে। তারপরও ভালো উৎপাদন ও বাজারদরের কারণে কৃষকরা উল্লেখযোগ্যভাবে লাভবান হয়েছেন।
একসময় অনাবাদি পড়ে থাকা পদ্মার বালুচর এখন চিনাবাদাম চাষের মাধ্যমে কৃষকদের জন্য সম্ভাবনার নতুন দ্বার খুলে দিয়েছে। কৃষকদের আশা, সরকারি সহায়তা অব্যাহত থাকলে আগামী বছরগুলোতে চরাঞ্চলে বাদাম চাষ আরও সম্প্রসারিত হবে।

