মৌলভীবাজার প্রতিনিধি
মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) প্লাবন পালের বিরুদ্ধে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের বরাদ্দ থেকে অনিয়মিতভাবে অর্থ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পসহ বিভিন্ন বরাদ্দের কাজ বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে নির্ধারিত অর্থের একটি অংশ না দিলে প্রকল্প অনুমোদন ও বিল প্রক্রিয়াকরণে জটিলতা সৃষ্টি করা হয়।
অভিযোগ অনুযায়ী, কালাপুর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের আলীনগর এলাকায় জব্বার মিয়ার বাড়ির সামনের রাস্তার উন্নয়ন কাজের জন্য অনুমোদন দেওয়া হলেও পরে প্রকল্পের বাস্তবায়ন স্থান পরিবর্তন করে কাশিমপুর গ্রামের সিতার মিয়ার বাড়ির সামনের রাস্তার ইটসোলিং কাজ সম্পন্ন করা হয়। প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য ইউপি সদস্য হুসনে আরা সুইটিকে সভাপতি করে পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়।
স্থানীয় সূত্র জানায়, উপজেলা তাঁতী দলের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মুকিদ প্রকল্পটির দায়িত্ব পালন করেন। তাঁর অভিযোগ, প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার পর দুই লাখ টাকার বিল উত্তোলনের সময় নানা জটিলতা তৈরি করা হয়। পরে অফিস পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের কথা বলে বরাদ্দের দুই লাখ টাকা থেকে ৪০ হাজার টাকা নেওয়া হয়।
আব্দুল মুকিদ দাবি করেন, শুধু এই প্রকল্প নয়, বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের ক্ষেত্রেই বরাদ্দের প্রায় ২০ শতাংশ অর্থ ‘অফিস মেইনটেইন’ খাতে নেওয়া হচ্ছে। এতে উন্নয়ন কাজের জন্য বরাদ্দকৃত অর্থের একটি বড় অংশ প্রকৃত কাজে ব্যয় হচ্ছে না।
এছাড়া অভিযোগ রয়েছে, ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন কর্মসূচির আওতায় ইউনিয়নভিত্তিক বরাদ্দের একটি অংশও বিভিন্নভাবে কর্তন করা হয়েছে। এতে গ্রামীণ সড়ক ও অবকাঠামো উন্নয়ন কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে বলে দাবি স্থানীয়দের।
অভিযোগকারীরা আরও বলেন, ইউনিয়নভিত্তিক বরাদ্দ সংক্রান্ত তথ্য জানতে তথ্য অধিকার আইনের আওতায় আবেদন করা হলেও বিভিন্নভাবে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করা হয়েছে।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা প্লাবন পাল বলেন, “কিসের কর্তন, কার কাছ থেকে কর্তন করা হয়েছে—এ ধরনের কোনো বিষয় আমার জানা নেই।”
এদিকে স্থানীয় সূত্রের দাবি, এর আগে চুনারুঘাট উপজেলায় দায়িত্ব পালনকালে প্লাবন পালের বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়মের লিখিত অভিযোগ উঠেছিল।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

