যশোর প্রতিনিধি
টানা ভারী বর্ষণ ও অপর্যাপ্ত পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার কারণে যশোর সদর উপজেলার চুড়ামনকাটি ইউনিয়নের আব্দুলপুর গ্রামে ভয়াবহ জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। দেশের অন্যতম বৃহৎ সবজির চারা উৎপাদনকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত এ এলাকায় কোটি টাকার সবজির চারা নষ্ট হয়ে যাওয়ায় ব্যাংক ও এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে চাষ করা কৃষকেরা চরম বিপাকে পড়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আব্দুলপুর মোড় থেকে প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন জেলায় আট থেকে ১০ লাখ টাকার সবজির চারা সরবরাহ করা হয়। মাসে এ এলাকায় প্রায় দুই থেকে তিন কোটি টাকার চারার বেচাকেনা হয়।
কৃষকদের অভিযোগ, গত বৃহস্পতিবার রাতের ভারী বৃষ্টির পর ভৈরব নদী নিকটবর্তী হলেও পর্যাপ্ত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় বিস্তীর্ণ বীজতলা পানিতে তলিয়ে যায়। পরে পানি নেমে গেলেও তীব্র রোদে চারাগুলো পচে নষ্ট হতে শুরু করেছে।
কৃষক আমিনউদ্দিন বলেন, এ এলাকার ৭০ থেকে ৭৫ জন চারা উৎপাদনকারীর পাশাপাশি ৩০০ থেকে ৪০০ শ্রমজীবী পরিবারের জীবিকা এই খাতের ওপর নির্ভরশীল। প্রতিবছর জলাবদ্ধতায় ক্ষতি হলেও এবার প্রায় ৪০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।
চাষি শাওন জানান, এনজিও থেকে দুই লাখ টাকা ঋণ নিয়ে ১০০টি বেডে চারা উৎপাদনে প্রায় সাড়ে তিন লাখ টাকা বিনিয়োগ করেছিলেন। ইতোমধ্যে অর্ধেক চারা নষ্ট হয়ে যাওয়ায় তার দেড় লাখ টাকারও বেশি ক্ষতি হয়েছে। এখন ঋণের কিস্তি পরিশোধ নিয়েও তিনি দুশ্চিন্তায় রয়েছেন।
আরেক কৃষক আশরাফুল আলম বলেন, সিনজেন্টার ‘আইসবল’ জাতের ফুলকপির বীজ কিনেও জলাবদ্ধতার কারণে একটি চারাও উৎপাদন করতে পারেননি। ফলে নতুন করে চাষ শুরু করতে আবারও ঋণ নিতে হবে।
কৃষকদের দাবি, ভৈরব নদীর সঙ্গে সংযোগ রেখে ৫৫০ মিটার পাকা ড্রেন এবং তিনটি নতুন কালভার্ট নির্মাণ করা হলে জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধান সম্ভব। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে আবেদন করা হলেও এখনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
যশোর সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রাজিয়া সুলতানা বলেন, আব্দুলপুরে সাড়ে সাত হেক্টর জমিতে ৬৪ জন কৃষক বাণিজ্যিকভাবে সবজির চারা উৎপাদন করেন। জলাবদ্ধতার খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে শ্রমিক নিয়োগ করে পানি অপসারণের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, স্থায়ী সমাধানের জন্য তিনটি কালভার্ট ও একটি পাকা ড্রেন নির্মাণের প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে জানানো হয়েছে এবং দ্রুত বাস্তবায়নের আশ্বাস পাওয়া গেছে।

