আহমেদ সিফাত,কুলিয়ারচর (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি
কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর উপজেলায় উপজেলা প্রশাসনের তাৎক্ষণিক অভিযানে অষ্টম শ্রেণিতে অধ্যয়নরত ১৩ বছর বয়সী এক কিশোরীর বাল্যবিবাহ বন্ধ করা হয়েছে। এ ঘটনায় বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন, ২০১৭ অনুযায়ী ভ্রাম্যমাণ আদালত কনের বাবাকে ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দিয়েছেন। একই সঙ্গে মেয়ের প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার আগে বিয়ে না দেওয়ার শর্তে পরিবারের কাছ থেকে লিখিত মুচলেকা নেওয়া হয়েছে।
শনিবার (১ আগস্ট) বিকেল ৩টার দিকে উপজেলার রামদী ইউনিয়নের মনোহরপুর গ্রামে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. ইয়াসিন খন্দকার এ অভিযান পরিচালনা করেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সৌদি প্রবাসী আব্দুল মান্নান ও নাসিমা বেগম দম্পতির ১৩ বছর বয়সী মেয়ে ইসরাতুল জান্নাত, যিনি স্থানীয় আগরপুর দিশারী প্রি-ক্যাডেট স্কুলের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী, তার সঙ্গে পাশের বাজিতপুর উপজেলার মধ্য গজারিয়া গ্রামের মাহফুজ আহমেদ অন্তরের বিয়ের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছিল। বাড়িতে প্যান্ডেল টাঙানো, অতিথি আপ্যায়নসহ বরযাত্রা গ্রহণের প্রস্তুতিও চলছিল।
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ইউএনও পুলিশ ও আনসার সদস্যদের নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে কনের অভিভাবকদের জিজ্ঞাসাবাদ করেন। তারা মেয়েটির অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার বিষয়টি স্বীকার করলে তদন্তে বয়স ১৮ বছরের কম হওয়ায় বিয়ের আয়োজন বন্ধ করে দেওয়া হয়।
পরে বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন, ২০১৭-এর ৮ ধারায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে কনের বাবা আব্দুল মান্নানকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে তিন মাসের সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেন। তিনি ঘটনাস্থলেই জরিমানার অর্থ পরিশোধ করেন।
এছাড়া কিশোরীটির ১৮ বছর পূর্ণ হওয়ার আগে কোনো অবস্থাতেই বিয়ে দেবেন না—এ মর্মে তার বাবা-মায়ের কাছ থেকে লিখিত অঙ্গীকারনামা গ্রহণ করা হয়।
অভিযান চলাকালে কুলিয়ারচর থানার এসআই অর্পণ বিশ্বাস, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও বিয়েতে আগত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইয়াসিন খন্দকার বলেন, “বাল্যবিবাহ একটি সামাজিক ব্যাধি এবং এটি আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। শিশু ও কিশোরীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে উপজেলা প্রশাসনের এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।”

