ফেনী প্রতিনিধি
ফেনীর সোনাগাজীতে নিখোঁজের প্রায় ১৭ ঘণ্টা পর সিদরাতুল মুনতাহা আয়াত (৩) নামে এক শিশুর মরদেহ পুকুর থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। শিশুটির বাবা ও মায়ের পরিবারের পাল্টাপাল্টি অভিযোগে তার মৃত্যুর কারণ নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) দুপুর ১টার দিকে উপজেলার চরচান্দিয়া ইউনিয়নের মধ্যম চরচান্দিয়া গ্রামের ঈদগাহের পশ্চিম পাশে মোজাফফর বাড়ি থেকে শিশুটি নিখোঁজ হয়। পরে শুক্রবার (২১ আগস্ট) ভোর ৫টার দিকে ওই বাড়ির পুকুরে শিশুটির মরদেহ ভাসতে দেখে স্বজনরা উদ্ধার করেন।
নিহত শিশু সিদরাতুল মুনতাহা আয়াত ওই বাড়ির শেখ শাহাব সজীব ও জান্নাতুল ফেরদৌস মনির মেয়ে। সজীব ও মনি স্বামী-স্ত্রীর পাশাপাশি সম্পর্কে চাচাতো ও জেঠাতো ভাই-বোন।
পুলিশ, স্থানীয় বাসিন্দা ও শিশুটির স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, শেখ মুজিবের ছেলে শেখ শাহাব সজীবের সঙ্গে তার চাচাতো ভাই শেখ আলীর মেয়ে জান্নাতুল ফেরদৌস মনির প্রায় পাঁচ বছর আগে বিয়ে হয়। বিয়ের এক বছরের মাথায় সজীব সৌদি আরবে চলে যান। এরপর মনি তার শিশু কন্যাকে নিয়ে বাবার বাড়িতে বসবাস করছিলেন বলে স্বজনরা জানান।
সম্প্রতি শিশুটিকে নিয়ে দুই পরিবারের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়। শিশুর মায়ের অভিযোগের পর স্থানীয় সাবেক চেয়ারম্যান শামছুউদ্দিন খোকনের মধ্যস্থতায় শিশুটিকে তার মায়ের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয় বলে জানা গেছে।
শিশুটির মা মনি অভিযোগ করেন, তার স্বামী আগামী সেপ্টেম্বর মাসে সৌদি আরব থেকে দেশে ফেরার কথা রয়েছে। তিনি স্বামীর সঙ্গে সংসার করতে চান। তবে স্বামীর পরিবারের কয়েকজন সদস্য তাদের বিচ্ছেদ চান বলে তার অভিযোগ। এ কারণে শিশুটিকে সরিয়ে দেওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
মনি জানান, বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার দিকে তিনি তার শিশু কন্যা আয়াতকে দাদির কাছে রেখে বাবার বাড়িতে গৃহস্থালির কাজে যান। দুপুর ১টার দিকে দাদি নামাজ পড়তে গেলে শিশুটি রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হয়।
দুপুর দেড়টার দিকে শিশুটির দাদা শেখ মুজিব সোনাগাজী মডেল থানায় নিখোঁজের বিষয়ে সাধারণ ডায়েরি করেন। পরে অনেক খোঁজাখুঁজি করেও শিশুটির সন্ধান না পাওয়ায় রাতে শিশুটির মা মনি দাদাসহ তিনজনের নাম উল্লেখ করে থানায় লিখিত অভিযোগ করেন।
রাত ১২টার দিকে সোনাগাজী মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) তপুর নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে তদন্ত করে। পরে শুক্রবার ভোর ৫টার দিকে শিশুটির ফুফু রুমি আক্তার বাড়ির পুকুরে শিশুটির মরদেহ ভাসতে দেখেন। খবর পেয়ে পরিবারের লোকজন পুকুর থেকে মরদেহ উদ্ধার করেন।
শুক্রবার দুপুরে ফেনী জেনারেল হাসপাতালে শিশুটির ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়। পরে বাদ আসর জানাজা শেষে তাকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।
সোনাগাজী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আবুল হাসিম বলেন, এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। প্রতিবেদন অনুযায়ী পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

