মনিরামপুর (যশোর) প্রতিনিধি
মাথার ওপর জীর্ণ-শীর্ণ চাল, মাটির দেয়ালে অসংখ্য ফাটল। কোথাও দেয়াল ধসে পড়েছে, আবার কোথাও বাঁশের খুঁটি দিয়ে কোনোমতে ঠেকিয়ে রাখা হয়েছে ঘর। বৃষ্টি হলেই ভাঙা চাল দিয়ে ঘরের ভেতর টপটপ করে পানি পড়ে। পানি ঠেকাতে বিভিন্ন স্থানে পাত্র বসিয়েও রক্ষা হয় না। কখন যে পুরো ঘরটি ভেঙে পড়ে—এমন আতঙ্কের মধ্যেই ঝুঁকিপূর্ণ ঘরে বসবাস করছেন যশোরের মনিরামপুর পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের তাহেরপুর গ্রামের দিনমজুর বাকের গাজী ও তাঁর পরিবার।
বাকের গাজীর পরিবারে স্ত্রী, এক শিশু সন্তান ও অসুস্থ বৃদ্ধ মাকে নিয়ে চার সদস্যের সংসার। দিনমজুরি করে পাওয়া সামান্য আয়ে কোনোভাবে সংসার চালালেও দীর্ঘদিন ধরে জরাজীর্ণ ঘরটি সংস্কার করার সামর্থ্য হয়নি তাঁর। ফলে বাধ্য হয়েই পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ওই ঘরে বসবাস করতে হচ্ছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, ঘরটির বিভিন্ন অংশ অত্যন্ত জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে। মাটির দেয়ালে বড় বড় ফাটল ধরেছে। একাধিক স্থানে দেয়াল ভেঙে পড়েছে। নড়বড়ে হয়ে গেছে ঘরের চালও। নিরাপত্তার জন্য কয়েকটি বাঁশের খুঁটি দিয়ে দেয়াল ও চাল ঠেকিয়ে রাখা হয়েছে। তবে খুঁটিগুলোও যে কোনো সময় ভেঙে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বাকের গাজী বলেন, ‘অতি বৃষ্টিতে আমাদের থাকার ঘরটি ভেঙে গেছে। এখন বাঁশের খুঁটি দিয়ে কোনোমতে ঠেকিয়ে রেখেছি। যেকোনো সময় ঘরটি পুরোপুরি ভেঙে পড়তে পারে। বৃষ্টি হলে চাল দিয়ে ঘরের ভেতর পানি পড়ে। রাতে ঠিকমতো ঘুমাতেও পারি না। আমি দিনমজুরি করে সংসার চালাই। নতুন করে ঘর তৈরি করার মতো সামর্থ্য আমার নেই। সরকার যদি ঘরটি সংস্কার করে দেয়, তাহলে পরিবার নিয়ে অন্তত নিরাপদে থাকতে পারব।’
প্রতিবেশী মাসুদ পারভেজ রুবেল বলেন, ‘ঘরটির অবস্থা খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। পরিবারের সদস্যদের অন্যত্র সরিয়ে না নিলে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। বাকের গাজী দিনমজুরি করে সংসার চালান। তাঁর পক্ষে নতুন ঘর তৈরি করা সম্ভব নয়। সরকারিভাবে পরিবারটির জন্য একটি নিরাপদ ঘরের ব্যবস্থা করা হলে তারা অনেকটা স্বস্তিতে জীবন কাটাতে পারতেন।’
স্থানীয়রা জানান, পরিবারটি দীর্ঘদিন ধরে অত্যন্ত কষ্টের মধ্যে বসবাস করছে। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে ঘরটির ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়। যেকোনো সময় ঘর ধসে পড়ে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তাই দ্রুত ঘরটি পরিদর্শন করে সংস্কার কিংবা পরিবারটির জন্য একটি নিরাপদ বসতঘরের ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়েছেন তারা।
এ বিষয়ে মনিরামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. সম্রাট হোসেন বলেন, ‘খোঁজখবর নিয়ে পরিবারটিকে সহায়তা করা হবে।’

