Nabadhara
ঢাকাবৃহস্পতিবার , ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. ইতিহাস
  5. কৃষি
  6. খুলনা বিভাগ
  7. খেলাধুলা
  8. চট্টগ্রাম বিভাগ
  9. জাতীয়
  10. জামালপুর
  11. জেলার সংবাদ
  12. ঝালকাঠি
  13. ঝিনাইদহ
  14. ঢাকা বিভাগ
  15. তথ্যপ্রযুক্তি
আজকের সর্বশেষ সবখবর

চিতলমারীর চিত্রা নদীর জোয়ারের পানিতে গ্রাম রক্ষা বাঁধ হুমকির মুখে

শফিকুল ইসলাম সাফা, চিতলমারী 
সেপ্টেম্বর ৩, ২০২৬ ৯:২৯ অপরাহ্ণ
Link Copied!

শফিকুল ইসলাম সাফা, চিতলমারী 

বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলার চিত্রা নদীসংলগ্ন মিনি সুন্দরবন এলাকায় টানা বৃষ্টি ও জোয়ারের পানিতে গ্রাম রক্ষা বাঁধ হুমকির মুখে পড়েছে। গত কয়েক দিনের অবিরাম বৃষ্টি ও নদীতে জোয়ারের পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় বাঁধ উপচে পানি লোকালয়ে ও মৎস্যঘেরে প্রবেশের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এতে নদীপাড়ের বাসিন্দা ও চিংড়ি চাষিদের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও হতাশা বিরাজ করছে। বাঁধের ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলো দ্রুত তদারকি ও সংস্কারের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, চিতলমারী উপজেলার সীমান্তবর্তী চিত্রা নদীতে জোয়ারের পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের বেড়িবাঁধসহ প্রায় পাঁচ কিলোমিটার নদীতীরবর্তী গ্রাম রক্ষা বাঁধ ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। এর মধ্যে কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে বিভিন্ন স্থানে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। ফলে চিত্রা নদীর তীরবর্তী মিনি সুন্দরবনসহ আশপাশের এলাকা পানিতে তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

এ পরিস্থিতিতে নদীপাড়ের সুরিগাতী, রায়গ্রাম, খিলিগাতী, ডুমুরিয়া, পারডুমুরিয়া, ঝালডাঙ্গা, আরুলিয়া ও খড়িয়াসহ বেশ কয়েকটি গ্রাম প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

ডুমুরিয়া স্কুলের সাবেক প্রধান শিক্ষক হরেন্দ্রনাথ রানা জানান, একসময় প্রতিবছর জুন থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত জোয়ার-ভাটার পানির চাপে এলাকা তলিয়ে যেত। এ পরিস্থিতি রোধে পানি উন্নয়ন বোর্ড নদীর পাশ দিয়ে গ্রাম রক্ষা বাঁধ নির্মাণ করে। তবে এ বছর পানির চাপ বেশি হওয়ায় ঝালডাঙ্গা গুচ্ছগ্রাম, আরুলিয়া স্লুইসগেট সংলগ্ন এলাকা এবং গোদাড়া মিনি সুন্দরবনের ইকোপার্কসহ বেশ কয়েকটি স্থানে বেড়িবাঁধ উপচে পানি পড়ছে। কোনোভাবে বাঁধ ভেঙে গেলে পুরো এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

খিলিগাতী গ্রামের বাসিন্দা ও সাবেক প্রভাষক মুকুলেশ ঢালী জানান, নদীর তলদেশ ভরাট হয়ে যাওয়া ও নদীশাসনের কারণে পানি উন্নয়ন বোর্ডের মূল বেড়িবাঁধ, গোদাড়া পার্কের বাঁধসহ গ্রাম রক্ষা বাঁধের বেশ কয়েকটি স্থান ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। গ্রামগুলোর উত্তর পাশ দিয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের মূল সড়ক এবং দক্ষিণ পাশে চিত্রা নদীর গ্রাম রক্ষা বাঁধ রয়েছে। মাঝখানে প্রায় ১২টি গ্রামে ১৫ হাজার মানুষ বসবাস করেন।

তিনি আরও জানান, দ্রুত গ্রাম রক্ষা বাঁধ সংস্কার করা না হলে আগামী অমাবস্যায় জোয়ারের পানি লোকালয়ে ঢুকে পড়তে পারে।

এলাকার মৎস্যচাষি আফতাব শেখ, প্রকাশ রায়সহ অনেকে জানান, পানি উন্নয়ন বোর্ডের গোদাড়া পার্ক, খড়িয়া স্কুলের পাশের রাস্তা ও ঝালডাঙ্গা গুচ্ছগ্রামের পাশের রাস্তাসহ বেড়িবাঁধ ও গ্রাম রক্ষা বাঁধের বেশ কয়েকটি স্থান দিয়ে পানি উপচে বিলে প্রবেশ করেছে। এতে শত শত মৎস্যচাষির মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে এলাকার হাজার হাজার চিংড়ি ঘের প্লাবিত হয়ে কোটি কোটি টাকার মৎস্যসম্পদ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

এ ব্যাপারে সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ শেখ নিজাম উদ্দিন জানান, প্রতিবছরই পানি উন্নয়ন বোর্ড গ্রাম রক্ষা বাঁধে মেরামতের কাজ করে থাকে। এ বছর পানির চাপ বেশি হওয়ায় অনেক জায়গা দিয়ে পানি উপচে পড়ছে এবং বেশ কিছু স্থানে ফাটল দেখা দিয়েছে। দ্রুত মূল বেড়িবাঁধ ও গ্রাম রক্ষা বাঁধ সংস্কারের প্রয়োজন রয়েছে। আগামী অমাবস্যায় পানির চাপ আরও বাড়তে পারে বলেও তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) খাদিজা আক্তার জানান, তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী জয়ন্ত পাল জানান, দ্রুত সরেজমিনে পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।