জাবিপ্রবি প্রতিনিধি
জামালপুর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবিপ্রবি) ব্যবস্থাপনা বিভাগের ‘ব্যবস্থাপনা সমিতি-২০২৬’-এর কার্যনির্বাহী পরিষদের নির্বাচন সুষ্ঠু ও উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে সহ-সভাপতি (ভিপি) পদে কাজী ইসমাঈল এবং সাধারণ সম্পাদক (জিএস) পদে মো. সাফিন আহমেদ নির্বাচিত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ ও ভোট গণনা শেষে বিকেল সাড়ে ২টায় চূড়ান্ত ফলাফল ঘোষণা করেন সমিতির সভাপতি ও ব্যবস্থাপনা বিভাগের চেয়ারম্যান আতিকুর রহমান।
সমিতির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, পদাধিকার বলে ব্যবস্থাপনা বিভাগের চেয়ারম্যান আতিকুর রহমান সমিতির সভাপতির দায়িত্ব পালন করবেন।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা যায়, কার্যনির্বাহী পরিষদের মোট ১৭টি পদের মধ্যে ১৪টি পদে প্রার্থীরা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। ফলে বৃহস্পতিবার সহ-সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও কোষাধ্যক্ষ—এই তিনটি পদে সরাসরি ব্যালটের মাধ্যমে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে মোট ১৪১ জন ভোটার অংশ নেন।
ফলাফল অনুযায়ী, সহ-সভাপতি পদে ১৪১টি ভোটের মধ্যে ১৩৮টি বৈধ ভোট পড়ে। এর মধ্যে ৭৯ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী কাজী ইসমাঈল। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী মো. শাহরূখ ইসলাম পেয়েছেন ৫৯ ভোট।
সাধারণ সম্পাদক পদে ১৪১ ভোটের মধ্যে ১৩৭টি বৈধ ভোট গণনা করা হয়। এতে ৮১ ভোট পেয়ে তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী মো. সাফিন আহমেদ নির্বাচিত হন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ইদ্রিস ডাক (রাকিবুল ইসলাম রাকিব) পেয়েছেন ৫৬ ভোট।
অন্যদিকে, কোষাধ্যক্ষ পদে ১৩৮টি বৈধ ভোটের মধ্যে ৯৪ ভোট পেয়ে তৃতীয় বর্ষের মো. সারোয়ার হাসান সজীব নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী মো. সাজ্জাদ হোসেন পেয়েছেন ৪৪ ভোট।
বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ১৪ জন হলেন—সহ-সাধারণ সম্পাদক শুভ্র বিশ্বাস, দপ্তর সম্পাদক মো. উমর আলী, ক্রীড়া সম্পাদক মো. মামুনুর রশিদ খান, সাহিত্য ও সংস্কৃতি সম্পাদক সনৎ বণিক, সমাজকল্যাণ ও আপ্যায়ন সম্পাদক সোহাগ সরকার, পাঠচক্র ও সেমিনার সম্পাদক শাহিন আলম, ছাত্রী সম্পাদিকা মোছা. দৌলতুন নেছা এবং প্রচার সম্পাদক মারিশা রহমান মৌরি।
এছাড়া কার্যনির্বাহী সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন মো. আশানুর রহমান, লুৎফর রহমান, পরশমণি, মো. জায়েদ নুর সায়েম ও আশিক খান আব্দুল্লাহ।
নির্বাচনে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের দায়িত্ব পালন করেন ব্যবস্থাপনা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক এস. এম. ইউসুফ আলী। তিনি বলেন, “শিক্ষার্থীদের মধ্যে গণতান্ত্রিক চর্চা ও নেতৃত্বের বিকাশ ঘটাতেই আমাদের এই প্রচেষ্টা। প্রার্থী ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ এবং শৃঙ্খলার কারণে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই অত্যন্ত সুষ্ঠুভাবে আমরা নির্বাচন সম্পন্ন করতে পেরেছি।”
নির্বাচন কমিশনারের দায়িত্ব পালন করেন ব্যবস্থাপনা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক জান্নাতুল ফেরদৌস।
ফলাফল ঘোষণার পর নবনির্বাচিত নেতৃবৃন্দকে ফুলেল শুভেচ্ছায় বরণ করে নেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা। এ সময় নবনির্বাচিত সহ-সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক বিভাগের সার্বিক উন্নয়ন এবং শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবি আদায়ে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

