পলাশবাড়ী (গাইবান্ধা) প্রতিনিধি
গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে জমিজমা সংক্রান্ত পূর্ববিরোধের জেরে আপন ভাতিজা ও ভাবিকে লোহার রড ও ধারালো ছোরা দিয়ে পিটিয়ে ও কুপিয়ে গুরুতর জখম করার অভিযোগ উঠেছে চাচা ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে। হামলায় ভাতিজার মাথায় আটটি সেলাই এবং ডান হাতের কব্জি ও বৃদ্ধাঙ্গুলিতে আঘাত লেগে হাড় ভেঙে যাওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এ সময় তার মায়ের গলায় থাকা স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নেওয়ারও অভিযোগ করা হয়েছে।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) দুপুর ২টার দিকে উপজেলার বরিশাল ইউনিয়নের মকদমপুর গ্রামের শাহ আলমের মুদি দোকানের সামনে এ হামলার ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীরা।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, মকদমপুর গ্রামের মৃত বাচ্চা মিয়ার ছেলে জাইদুল ইসলাম (৪৭) ও তার ছোট ভাই সাইদুল ইসলাম কাঞ্চে (৪২) এবং কাঞ্চের স্ত্রী ছাবিনা বেগমের (৩৮) মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে পারিবারিক ও জমিজমা নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল।
এরই জেরে ঘটনার দিন সাইদুল ইসলাম কাঞ্চে, তার স্ত্রী ছাবিনা বেগমসহ অজ্ঞাতনামা আরও ২-৩ জন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে জাইদুল ইসলামের বসতবাড়ির পাশে শাহ আলমের মুদি দোকানের সামনে অবস্থান নেন বলে অভিযোগ। এ সময় জাইদুল ইসলামের ছেলে সুমন মিয়া (১৭) ও স্ত্রী সোনালী বেগমকে দেখে তারা গালিগালাজ শুরু করেন।
এতে প্রতিবাদ করলে সাইদুল ইসলামের নির্দেশে ছাবিনা বেগম লোহার রড দিয়ে সুমন ও সোনালীকে এলোপাতাড়ি মারধর করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। একপর্যায়ে সাইদুল ইসলাম হাতে থাকা ধারালো ছোরা দিয়ে সুমনের মাথার পেছনে আঘাত করেন। এতে তার মাথা কেটে গুরুতর জখম হয়। পরে চিকিৎসকরা তার মাথায় আটটি সেলাই দেন বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, ছাবিনা বেগম ফের সুমনের মাথায় রড দিয়ে আঘাত করতে গেলে তা ঠেকানোর সময় তার ডান হাতের কব্জি ও বৃদ্ধাঙ্গুলিতে আঘাত লাগে। এতে ওই অংশের হাড় ভেঙে যায়। পরে হামলাকারীরা সোনালী বেগমকেও মারধর করে আহত করেন এবং তার গলায় থাকা প্রায় ৬৪ হাজার টাকা মূল্যের চার আনা ওজনের স্বর্ণের চেইন নিয়ে যান বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
একপর্যায়ে সুমন মাটিতে পড়ে গেলে তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা করা হয় বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
তাদের চিৎকারে জাইদুল ইসলাম এবং স্থানীয় বাসিন্দা শামীম, শাহ আলম, ফজলু ও শাহিনসহ আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে হামলাকারীরা তাদের জানমালের ক্ষতি করার হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল থেকে চলে যান বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীরা।
পরে স্বজনরা আহত সুমনকে উদ্ধার করে পলাশবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে ভর্তি করেন। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। আহত সোনালী বেগম স্থানীয়ভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।
এ ঘটনায় সুমনের বাবা জাইদুল ইসলাম বাদী হয়ে সাইদুল ইসলাম কাঞ্চে ও তার স্ত্রী ছাবিনা বেগমসহ অজ্ঞাতনামা কয়েকজনকে অভিযুক্ত করে পলাশবাড়ী থানায় লিখিত এজাহার দিয়েছেন।
পলাশবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বলেন, লিখিত এজাহার পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

