নিজস্ব প্রতিবেদক, গাজীপুর
গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে নেওয়ার পথে ‘আলোচিত’ ৩০ মামলার আসামি পিচ্চি রাজাকে প্রিজন ভ্যান থেকে পালাতে সহায়তার অভিযোগে গ্রেপ্তার তার বোনসহ দুই পুলিশ সদস্যের চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সকালে গাজীপুর চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-৪-এর বিচারক জুবায়ের রশিদ এ রিমান্ড মঞ্জুর করেন। রিমান্ডপ্রাপ্তরা হলেন—এসআই প্রবীর কুমার বিশ্বাস, ভ্যানচালক নায়েক কামাল হোসেন ও পিচ্চি রাজার বোন তাসলিমা।
গাজীপুর মেট্রোপলিটন আদালতের পরিদর্শক আহসান উল্লাহ চৌধুরী রিমান্ডের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, এর আগে সোমবার মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সৈয়দ মিজানুর রহমান আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। পরে আদালত তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। মঙ্গলবার শুনানি শেষে চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়।
মামলার সূত্রে জানা যায়, গত ২৭ সেপ্টেম্বর ২৯ জন আসামিকে নিয়ে ঢাকা জেলা জজ আদালত থেকে কাশিমপুরের দিকে যাচ্ছিল একটি প্রিজন ভ্যান। তাঁতীবাজারের পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারের কাছে ভ্যানটি থামানো হয়। এ সময় প্রিজন ভ্যানের ইনচার্জ এএসআই প্রবীর কুমার বিশ্বাস চালকের কাছ থেকে ভ্যানের চাবি নেন। পরে হাজতি পিচ্চি রাজা ও খাইরুল বাশারকে ভ্যান থেকে বের করে নেওয়া হয়।
খাইরুল বাশারকে ভ্যানের সামনে নেওয়া হলেও পিচ্চি রাজা ও এসআই প্রবীর কুমার বিশ্বাস আর ভ্যানে ওঠেননি। পরে অপেক্ষমাণ একটি ব্যক্তিগত গাড়িতে করে পিচ্চি রাজা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান। রাত সাড়ে ৮টার দিকে এসআই প্রবীর কুমার বিশ্বাস ঘটনাস্থলে ফিরে এসে প্রিজন ভ্যানে ওঠেন। এরপর স্কট পার্টির সদস্যদের নিয়ে আসামি পালানোর ঘটনা সাজানো হয়েছে বলে তদন্তে উঠে আসে।
তদন্তে পাওয়া সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে এসআই প্রবীর কুমার বিশ্বাস, প্রিজন ভ্যানের চালক নায়েক কামাল হোসেন ও পিচ্চি রাজার বোন তাসলিমাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এ ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে প্রিজন ভ্যানের সঙ্গে থাকা কনস্টেবল মো. জাকির হোসেন, কনস্টেবল মো. সাকিব ও কনস্টেবল শাকিল হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধেও পুলিশের পক্ষ থেকে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।

