মনিরামপুর (যশোর) প্রতিনিধি
যশোরের মনিরামপুরে মনোহরপুর কারিগরি ও বিজ্ঞান কলেজের অধ্যক্ষ হাফিজুর রহমানের বিরুদ্ধে প্রতিষ্ঠানের নাইট গার্ড রাজকুমার মণ্ডলকে ভয়ভীতি দেখিয়ে চাকরি ছাড়তে বাধ্য করা এবং পরে গুম করে রাখার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় রাজকুমারের স্ত্রী মিনতি মণ্ডল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
অভিযোগে মিনতি মণ্ডল উল্লেখ করেন, তাঁর স্বামী কলেজ প্রতিষ্ঠার পর থেকে নাইট গার্ড হিসেবে কর্মরত ছিলেন। প্রায় দুই মাস আগে অধ্যক্ষ হাফিজুর রহমান তাঁকে নিজের কক্ষে ডেকে একটি কাগজে স্বাক্ষর করতে বাধ্য করেন। স্বাক্ষর না করলে তাঁকে বিভিন্ন ধরনের হুমকি ও হত্যার ভয় দেখানো হয়। কোনো কারণ দর্শানোর নোটিশ ছাড়াই ভয়ভীতি দেখিয়ে তাঁকে চাকরি থেকে অব্যাহতি নিতে বাধ্য করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
মিনতি মণ্ডলের দাবি, তাঁর স্বামী পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। গত ৯ সেপ্টেম্বর থেকে তাঁর কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না। আত্মীয়স্বজনের বাড়িসহ বিভিন্ন স্থানে খোঁজ করেও তাঁকে পাওয়া যায়নি। বাড়ি থেকে বের হওয়ার আগে রাজকুমার তাঁকে জানিয়েছিলেন, বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখানোর কারণে তাঁর আর চাকরি করা সম্ভব হবে না।
অভিযোগে আরও বলা হয়, রাজকুমারকে মানসিক হয়রানি, শারীরিক নির্যাতন ও প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে চাকরি ছাড়তে বাধ্য করা হয়েছে। তিনি স্বেচ্ছায় চাকরি থেকে অব্যাহতি নেননি বলেও দাবি করেন তাঁর স্ত্রী। স্বামীর নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় পরিবার উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে অধ্যক্ষ হাফিজুর রহমান বলেন, রাজকুমার কয়েক মাস আগে তাঁর চাকরিসংক্রান্ত কিছু সমস্যার কথা জানিয়েছিলেন। পরে তিনি রাজকুমারকে ২০ হাজার টাকাও দিয়েছেন। তবে তাঁর নিখোঁজ হওয়ার বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না।
মনিরামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু সাঈদ বলেন, অভিযোগটি তদন্ত করছেন উপপরিদর্শক (এসআই) অলোক কুমার বিশ্বাস। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সম্রাট হোসেন বলেন, বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

