শফিকুল ইসলাম সাফা, চিতলমারী
এক ছাদের নিচে ২০১টি প্রতিমা ও বিগ্রহের সমাহার। কোথাও দেবী দুর্গার নানা রূপ, কোথাও রামায়ণ-মহাভারতের পৌরাণিক কাহিনি, আবার কোথাও দেব-দেবী, সাধক ও মনীষীদের প্রতিকৃতি। এমন ব্যতিক্রমী ও দৃষ্টিনন্দন আয়োজন নিয়ে বাগেরহাটের চিতলমারীর ঐতিহ্যবাহী চণ্ডিভিটায় অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে শারদীয় দুর্গাপূজা। প্রতিমার বৈচিত্র্য আর কারুকাজ দেখতে পূজার আগেই সেখানে ভিড় করছেন দূরদূরান্তের ভক্ত ও দর্শনার্থীরা।
চিতলমারী উপজেলার চরবানিয়ারী পশ্চিমপাড়া গ্রামের সর্বজনীন চণ্ডিভিটা দুর্গামন্দিরে প্রতিবছরই ব্যতিক্রমী আয়োজনে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হয়। তবে এবার এক ছাদের নিচে ২০১টি প্রতিমা নিয়ে সাজানো হচ্ছে সুবিশাল পূজামণ্ডপ। আয়োজকদের প্রত্যাশা, এ অনন্য আয়োজন দেখতে লক্ষাধিক ভক্ত, পূজারি ও দর্শনার্থীর সমাগম ঘটবে।
মণ্ডপজুড়ে স্থান পেয়েছে বেদ, পুরাণ, চণ্ডী, রামায়ণ ও মহাভারতের বিভিন্ন কাহিনি। পাশাপাশি রয়েছে সরস্বতী, শিব, রাধা-কৃষ্ণ, রাম-সীতা, হনুমান, শ্রীচৈতন্যচরিতামৃত, শ্রীহরি-গুরুচাঁদসহ বিভিন্ন পৌরাণিক চরিত্র, দেব-দেবী, সাধক ও মনীষীদের প্রতিকৃতি। প্রতিটি প্রতিমায় ফুটিয়ে তোলা হয়েছে নিপুণ কারুকাজ ও বৈচিত্র্য। মাটির কাঠামো তৈরি থেকে শুরু করে রং ও অলংকরণের কাজ সম্পন্ন করতে টানা তিন মাস ধরে পরিশ্রম করেছেন শিল্পীরা।
প্রধান ভাস্কর্যশিল্পী কিশোর বিশ্বাস বলেন, পাঁচজন ভাস্কর্যশিল্পী মিলে তিন মাস ধরে প্রতিমাগুলো তৈরি করেছেন। দেব-দেবীর প্রতিমা নির্মাণ তাঁদের কাছে শুধু শিল্পকর্ম নয়, ভক্তিরও বিষয়। দর্শনার্থীদের আকৃষ্ট করতে এবং প্রতিমায় নতুনত্ব আনতে তাঁরা সর্বোচ্চ শ্রম দিয়েছেন।
চণ্ডিভিটা দুর্গামন্দিরের সভাপতি সুনিল ঘরামী বলেন, পাঁচজন ভাস্কর্যশিল্পী টানা তিন মাস ধরে ২০১টি প্রতিমা তৈরির কাজ করেছেন। পূজামণ্ডপসহ পুরো চণ্ডিভিটা এলাকা সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় রাখা হবে। এ আয়োজন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ সহযোগিতা করছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা শংকরী মজুমদার বলেন, নিজেদের এলাকায় এমন বর্ণিল আয়োজন দেখার দীর্ঘদিনের স্বপ্ন এবার পূরণ হতে যাচ্ছে। এ আয়োজন নতুন প্রজন্মকে সনাতন ধর্মের ইতিহাস, পৌরাণিক কাহিনি ও ধর্মীয় ঐতিহ্য সম্পর্কে জানতে এবং শিখতে অনুপ্রাণিত করবে।
মন্দির কর্তৃপক্ষের মতে, ২০১টি প্রতিমার এ আয়োজনের অন্যতম উদ্দেশ্য নতুন প্রজন্মের কাছে সনাতন ধর্মের সমৃদ্ধ ইতিহাস ও ঐতিহ্য তুলে ধরা। ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের পাশাপাশি প্রতিমার মাধ্যমে পৌরাণিক কাহিনি ও ঐতিহাসিক ঐতিহ্যকে দর্শনার্থীদের সামনে উপস্থাপন করাই তাঁদের লক্ষ্য।

