মনিরামপুর (যশোর) প্রতিনিধি
যশোরের মনিরামপুরে শিক্ষক দিবসের কেক কাটার সময় পার্টি স্প্রের আঘাতে তৃতীয় শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর চোখ গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ইত্যা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. সাইফুল ইসলামের কাছে কৈফিয়ত তলব করেছে শিক্ষা বিভাগ। গত ১৫ অক্টোবর উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা এস এম নূর-এ-এলাহী স্বাক্ষরিত নোটিশে সাত কার্যদিবসের মধ্যে জবাব দিতে বলা হয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিদ্যালয়ের অন্য শিক্ষকদের সঙ্গে আলোচনা না করেই শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে টাকা তুলে শিক্ষক সাইফুল ইসলাম শিক্ষক দিবস উপলক্ষে কেক কাটার আয়োজন করেন। এ সময় পার্টি স্প্রের আঘাতে তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী নুসরাত ফারজানার চোখ জখম হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে আগেও অসদাচরণ ও কটূক্তির অভিযোগ ছিল বলে জানা গেছে।
বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক শাম্মী আক্তার বলেন, “আমাদের সঙ্গে কোনো পরামর্শ না করেই সাইফুল সাহেব নিজে নিজে এই অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছেন। এর দায়ভার তো আমাদের সবার ওপর এসে পড়ে।”
উপজেলার সিনিয়র সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা এস এম নূর-এ-এলাহী বলেন, “ব্যক্তিগত উদ্যোগে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অর্থ তুলে পার্টি স্প্রে ব্যবহারের কারণে একটি শিশুর চোখ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সরকারি শৃঙ্খলা লঙ্ঘনের দায়ে তাঁর বিরুদ্ধে কেন বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, সে বিষয়ে জবাব চাওয়া হয়েছে।”
আহত শিক্ষার্থীর বাবা হযরত আলী বলেন, “আমার অবুঝ মেয়েটার জীবন আজ অন্ধত্বের মুখে। শিক্ষক হয়ে কেউ কীভাবে এমন কাণ্ড ঘটাতে পারে? আমি এর সঠিক বিচার চাই।”
অভিযুক্ত শিক্ষক মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, “শিক্ষক দিবস উদযাপনের উদ্দেশ্য মহৎ ছিল। তবে এমন একটি দুঃখজনক ঘটনা ঘটে যাবে, তা আমি কল্পনাও করিনি। বিষয়টি আকস্মিক ও অনভিপ্রেত।”

