মৌলভীবাজার প্রতিনিধি
চুক্তি অনুযায়ী শারদীয় দুর্গাপূজার ন্যায্য উৎসব বোনাস না দেওয়ার অভিযোগে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে তিন চা বাগানের শ্রমিকেরা মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেছেন। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৯টায় উপজেলার আলীনগর চা বাগান হাসপাতালের সামনে এ কর্মসূচি পালন করেন তাঁরা। এ সময় দুর্গাপূজার আগেই প্রাপ্য বোনাস পরিশোধের দাবি জানান শ্রমিকেরা।
ডানকান ব্রাদার্সের আলীনগর চা বাগান, এর ফাঁড়ি সুনছড়া ও কামারছড়া চা বাগান পঞ্চায়েতের উদ্যোগে আয়োজিত মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন আলীনগর চা বাগান পঞ্চায়েতের সভাপতি গণেশ পাত্র। বক্তব্য দেন বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রামভজন কৈরী, কামারছড়া চা বাগান পঞ্চায়েতের সভাপতি দিলিপ কৈরী, শ্রমিক নেতা সীতারাম বীন, সজল কৈরী ও শ্যামল গোস্বামীসহ অন্যরা।
বক্তারা অভিযোগ করেন, বাংলাদেশ চা সংসদ ও বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের (বিসিএস-বাচাশ্রই) চুক্তি অনুযায়ী কর্মদিবস গণনা করে উৎসব বোনাস দেওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে শুধু যেসব দিন শ্রমিকেরা কাজে উপস্থিত ছিলেন, সেসব দিন হিসাব করে বোনাস দেওয়া হয়েছে। সাপ্তাহিক ছুটি, বার্ষিক ছুটি ও অর্জিত ছুটির দিনগুলো কর্মদিবস হিসেবে গণনায় না ধরায় অনেক শ্রমিক ন্যায্য বোনাস থেকে বঞ্চিত হয়েছেন বলে দাবি করেন তাঁরা।
শ্রমিকেরা বলেন, সারা বছর রোদ-বৃষ্টিতে কঠোর পরিশ্রম করেও বছরের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজায় তাঁরা ন্যায্য পাওনা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এতে পরিবার-পরিজন নিয়ে আনন্দের সঙ্গে পূজা উদ্যাপন করা কঠিন হয়ে পড়েছে। তাঁরা পূজার আগেই বকেয়া ও প্রাপ্য বোনাস পরিশোধের দাবি জানান। অন্যথায় আন্দোলনে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দেন।
এ বিষয়ে আলীনগর চা বাগানের প্রধান ব্যবস্থাপক এ জেড এম রফিউল আলম বলেন, “আমরা চুক্তি অনুযায়ীই ন্যায্য বোনাস প্রদান করেছি। অন্য চা বাগানের সঙ্গে তুলনা করলেই হিসাব পাওয়া যাবে।”
মানববন্ধনে বক্তারা বাংলাদেশ শ্রম আইন-২০০৬-এর ২০২৬ সালে সংশোধিত বিধান, বাংলাদেশ শ্রমবিধিমালা-২০১৫ এবং ২০২৩ সালের চা-শিল্প সেক্টরের নিম্নতম মজুরির গেজেটের কথা উল্লেখ করে বলেন, উৎসব বোনাসের ক্ষেত্রে কাজে উপস্থিতির শর্ত আরোপের সুযোগ নেই। তাঁদের দাবি, সংশ্লিষ্ট আইন ও চুক্তি অনুযায়ী শ্রমিকদের প্রাপ্য বোনাস নিশ্চিত করতে হবে।
এদিকে গত ১২ অক্টোবর চা-শ্রমিক সংঘের মৌলভীবাজার জেলা কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শ্যামল অলমিক ও সাধারণ সম্পাদক হরিনারায়ন হাজরা এক যৌথ বিবৃতিতে জানান, জেলার বিভিন্ন চা বাগানে এখনো অনেক শ্রমিক উৎসব বোনাস পাননি। যেসব বাগানে বোনাস দেওয়া হয়েছে, সেখানেও পূর্ণ বোনাস দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন তাঁরা।
বিবৃতিতে কমলগঞ্জ উপজেলার শমসেরনগর, দেওছড়া, ডবলছড়া, চাতলাপুর ও তিলকপুরসহ বিভিন্ন চা বাগানে উৎসব বোনাসের পরিবর্তে কর্মে উপস্থিতির ভিত্তিতে হাজিরা বা উৎসাহ বোনাস দিয়ে শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করার অভিযোগ তোলা হয়।

