জয়পুরহাট প্রতিনিধি
জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার আটাপুর ইউনিয়নের গলাকাটা-আংড়া সড়কে কার্পেটিংয়ের কাজ শেষ হওয়ার ১০ থেকে ১৫ দিনের মধ্যেই উঠে যাচ্ছে পিচ। হাত দিয়ে টানলে কিংবা পায়ে হাঁটলেও পিচ উঠে আসছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার ও কার্পেটিংয়ে অনিয়মের অভিযোগ তুলে ঠিকাদারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
উপজেলা প্রকৌশল অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, বৃহত্তর পাবনা-বগুড়া জেলার গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ৮৫ লাখ টাকা ব্যয়ে ৯৮০ মিটার দৈর্ঘ্যের সড়কটির কাজের কার্যাদেশ পায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স লিনা এন্টারপ্রাইজ। কাজের শুরু থেকেই নিম্নমানের ইট ও খোয়া ব্যবহারের অভিযোগ তোলেন এলাকাবাসী। তাঁদের বাধার মুখে কিছু খোয়া পরিবর্তন করা হলেও এবার কার্পেটিংয়ে নিম্নমানের বিটুমিন ব্যবহার ও পরিমাণে কম দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
সরেজমিনে দাউদপুর গ্রামে গিয়ে স্থানীয় মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, ‘রাস্তার কাজের শুরু থেকেই নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করা হচ্ছে। বাধা দিয়েও কোনো লাভ হয়নি। ৮-১০ দিন আগে পিচ দেওয়া হয়েছে, অথচ এখনই উঠে যাচ্ছে। প্রতিবাদ করলে ঠিকাদার ভাড়াটে লোক এনে আমাদের হুমকি দিচ্ছেন।’
একই গ্রামের হারুনুর রশিদ বলেন, ‘পিচ ঢালার সময় নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের প্রতিবাদ করলে বলা হয়েছিল, রাস্তা শক্ত হতে ১৫ দিন সময় লাগবে। কিন্তু ১৫ দিন পার হওয়ার পরও পিচ উঠে যাওয়া জায়গায় নতুন করে পিচ দেওয়া হচ্ছে। এখন আবার বলা হচ্ছে, ২৮ দিন সময় লাগবে। চোখের সামনে অনিয়ম হচ্ছে, প্রতিবাদ করলেই হুমকি দেওয়া হচ্ছে।’
অভিযোগের বিষয়ে ঠিকাদার মাহাবুব হোসেন বলেন, অতিরিক্ত তাপমাত্রার কারণে পিচ জমতে কিছুটা সময় লাগছে। কয়েক দিন গেলে সমস্যা ঠিক হয়ে যাবে। তবে স্থানীয়দের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, কয়েকজন ঠিকাদারকে সঙ্গে নিয়ে তিনি সড়কটি দেখতে গিয়েছিলেন।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী মো. মাহমুদুল হাসান বলেন, ‘সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কার্পেটিং উঠে যাওয়ার বিষয়টি জেনেছি। সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারসহ যৌথভাবে পরিদর্শন করে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
এ অবস্থায় সড়কটির কাজের গুণগত মান দ্রুত তদন্ত করে অনিয়মের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

