শেরপুর (বগুড়া) প্রতিনিধি
বগুড়া শহরের যানজট নিরসনের নামে শেরপুর-ধুনট মহাসড়কে চলাচলকারী ‘করতোয়া গেটলক বাস সার্ভিস’ সাতমাথা থেকে সরানোর সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবি জানিয়েছে শেরপুর-ধুনট মালিক-শ্রমিক যৌথ কমিটি। এ সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা না করলে শেরপুর থেকে বাস সার্ভিস বন্ধ রাখার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন সংগঠনটির নেতারা।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) বগুড়া জেলা বাস মিনিবাস কোচ মাইক্রোবাস পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়ন কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানানো হয়।
লিখিত বক্তব্যে নেতারা বলেন, সম্প্রতি জেলা প্রশাসকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক সভায় করতোয়া গেটলক বাস সার্ভিস সাতমাথা থেকে সরানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। অথচ শহরের যানজটের জন্য দায়ী ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা, সিএনজি, স্কুলবাস ও পার্সেল ভ্যানের চলাচল যথাযথভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে না। সার্বিক যানবাহন ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত না করে শুধু একটি ঐতিহ্যবাহী পরিবহন সেবাকে লক্ষ্যবস্তু করা যৌক্তিক নয়।
তাঁরা আরও বলেন, গত ৩০ থেকে ৩৫ বছর ধরে করতোয়া গেটলক বাস সার্ভিস শেরপুর ও ধুনট উপজেলার হাজার হাজার শিক্ষার্থী, শিক্ষক, আইনজীবী, ব্যাংক কর্মকর্তা ও রোগীদের যাতায়াতের সেবা দিয়ে আসছে। হঠাৎ সাতমাথা থেকে এ সার্ভিস সরিয়ে নেওয়া হলে সাধারণ যাত্রীরা ভোগান্তিতে পড়বেন। পাশাপাশি পরিবহন খাতের অনেক মালিক ও শ্রমিক কর্মসংস্থান হারানোর আশঙ্কা রয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে দাবি জানানো হয়, শুধু একটি পরিবহনের স্থান পরিবর্তন না করে শেরপুর, শাহজাহানপুর, ধুনট ও গাবতলী উপজেলার সিএনজিসহ অন্যান্য যানবাহনের জন্য সুনির্দিষ্ট স্ট্যান্ড নির্ধারণ করতে হবে।
নেতারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, প্রশাসন দ্রুত সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা না করলে শেরপুর থেকে করতোয়া গেটলক বাস সার্ভিস বন্ধ রাখতে বাধ্য হবেন তাঁরা। এ পরিস্থিতির দায়ভার সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে নিতে হবে বলেও জানান তাঁরা।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন শেরপুর-ধুনট মালিক-শ্রমিক যৌথ কমিটির আহ্বায়ক বিএইচএম কামরুজ্জামান রাফু, বগুড়া জেলা বাস মিনিবাস কোচ পরিবহন মালিক সমিতির শেরপুর শাখার সাধারণ সম্পাদক সেলিম রেজা, পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি আরিফুর রহমান মিলন, সাবেক সাধারণ সম্পাদক মতিউর রহমানসহ স্থানীয় বিভিন্ন পরিবহন মালিক ও শ্রমিক সংগঠনের নেতারা।

