Nabadhara
ঢাকাশুক্রবার , ৬ নভেম্বর ২০২৬
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. ইতিহাস
  5. কৃষি
  6. খুলনা বিভাগ
  7. খেলাধুলা
  8. চট্টগ্রাম বিভাগ
  9. জাতীয়
  10. জামালপুর
  11. জেলার সংবাদ
  12. ঝালকাঠি
  13. ঝিনাইদহ
  14. ঢাকা বিভাগ
  15. তথ্যপ্রযুক্তি
আজকের সর্বশেষ সবখবর

পাখিমারা খালের মিঠাপানি রক্ষার দাবি, হুমকিতে ১০ গ্রামের কৃষি ও অর্থনীতি

Link Copied!

অশোক মুখার্জি, কলাপাড়া (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি 

পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার নীলগঞ্জ ইউনিয়নের পাখিমারা খাল ঘিরে গড়ে উঠেছে অন্তত ১০ গ্রামের কৃষিনির্ভর জীবন ও অর্থনীতি। প্রায় ১০ কিলোমিটার দীর্ঘ এবং কোথাও কোথাও ৩০০ থেকে ৩৫০ ফুট প্রশস্ত এ খালের মিঠাপানি ব্যবহার করে বছরের পর বছর ধান ও সবজি চাষ করছেন হাজারো কৃষক। তবে খালের সঙ্গে সংযুক্ত তিনটি স্লুইসগেট দিয়ে নদীর লবণাক্ত পানি প্রবেশের আশঙ্কায় এখন হুমকির মুখে পড়েছে তাঁদের কৃষি ও জীবিকা। দ্রুত অস্থায়ী বাঁধ নির্মাণ করা না হলে কয়েক হাজার কৃষক পরিবারের স্বাবলম্বী হওয়ার দীর্ঘদিনের প্রচেষ্টা ব্যর্থ হতে পারে।

স্থানীয় কৃষকদের তথ্যমতে, পাখিমারা খালের পানির ওপর নির্ভরশীল কুমিরমারা, মজিদপুর, এলেমপুর, ইসলামপুর, নেয়ামতপুর, গামইরতলা, নাওভাঙা, পাখিমারা, পূর্ব সোনাতলা, বাইনতলা ও মোস্তফাপুরের (আংশিক) কৃষকেরা। এসব এলাকার অন্তত চার হাজার কৃষক পরিবার ধানের পাশাপাশি সারা বছর বিভিন্ন ধরনের সবজি আবাদ করে।

প্রায় তিন দশক ধরে পাখিমারা খালের মিঠাপানি ব্যবহার করে এ অঞ্চলে কৃষিকাজের ব্যাপক প্রসার ঘটেছে। একসময় যাঁরা অন্যের জমিতে দিনমজুর হিসেবে কাজ করতেন, তাঁদের অনেকেই এখন নিজের জমিতে চাষাবাদ করে স্বাবলম্বী হয়েছেন। ধান ও সবজি চাষের আয় বদলে দিয়েছে তাঁদের জীবনযাত্রা ও গ্রামীণ অর্থনীতির চিত্র।

উৎপাদিত সবজি স্থানীয় পাখিমারা বাজারসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্রি হয়। কৃষকদের দাবি, কলাপাড়া উপজেলার প্রায় ৭০ শতাংশ সবজির চাহিদা পূরণ হয় এ অঞ্চলে উৎপাদিত শাকসবজি দিয়ে। কৃষি তাঁদের আয় ও কর্মসংস্থানের পাশাপাশি সন্তানদের লেখাপড়া ও পরিবারের দৈনন্দিন ব্যয় মেটানোর প্রধান অবলম্বন।

কৃষকদের অভিযোগ, পাখিমারা খালের সঙ্গে সংযুক্ত যুগির খাল, নিজকাটা ও নবীপুর স্লুইসগেট দিয়ে নদীর লবণাক্ত পানি প্রবেশের আশঙ্কা রয়েছে। এ পানি খালে ঢুকলে দীর্ঘদিন ধরে সংরক্ষিত মিঠাপানি নষ্ট হতে পারে। এতে সবজি ও বোরো ধানের আবাদ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা করছেন তাঁরা।

কৃষক সুলতান গাজী জানান, প্রতিবছর স্লুইসগেটগুলোর সামনে বেড়িবাঁধের বাইরে অস্থায়ী বাঁধ নির্মাণ করে লবণাক্ত পানির প্রবেশ ঠেকানো হয়। এতে খালের মিঠাপানি ধরে রেখে কৃষকেরা চাষাবাদ করতে পারেন।

তবে চলতি বছর এখনো অস্থায়ী বাঁধ নির্মাণের কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। কৃষক আবুল কালাম বলেন, অর্থের সংস্থান না থাকায় এবার কৃষকেরাও নিজেদের উদ্যোগে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারছেন না। এ অবস্থায় তাঁরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে অস্থায়ী বাঁধ নির্মাণের আবেদন জানিয়েছেন। এ বিষয়ে আশ্বাসও পেয়েছেন বলে জানান তিনি।

কৃষকদের দাবি, প্রতিবছরের মতো এবারও দ্রুত স্লুইসগেটগুলোর সামনে অস্থায়ী বাঁধ নির্মাণ করে লবণাক্ত পানির প্রবেশ বন্ধ করতে হবে। তা না হলে বিশেষ করে শীতকালীন সবজি ও বোরো ধানের আবাদ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে।

কৃষকদের ভাষ্য, লবণাক্ত পানি প্রবেশ ঠেকানো না গেলে অন্তত তিন হাজার কৃষক পরিবার সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। কৃষি উৎপাদন ব্যাহত হলে কোটি কোটি টাকার আয় থেকে বঞ্চিত হবেন তাঁরা। একই সঙ্গে স্থানীয় বাজারে সবজি সরবরাহ কমে যাওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে।

কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আরিফুজ্জামান জানান, কৃষকদের সঙ্গে যোগাযোগ করে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করা হবে। কৃষি উৎপাদন ও শত শত কৃষকের জীবন-জীবিকার স্বার্থে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আরাফাত হোসেন জানান, কৃষকদের এ সমস্যা সমাধানের চেষ্টা চলছে। ইউনিয়ন পরিষদ ও উপজেলা পরিষদের সহযোগিতায় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

পাখিমারা খালের মিঠাপানি রক্ষা এখন শুধু কৃষকদের দাবি নয়, বরং ১০ গ্রামের কৃষি, অর্থনীতি ও খাদ্য উৎপাদন টিকিয়ে রাখার বিষয়। তাই দ্রুত অস্থায়ী বাঁধ নির্মাণে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ ও কার্যকর উদ্যোগ চান স্থানীয় কৃষকেরা।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।