সুব্রত সরকার, মহম্মদপুর (মাগুরা) প্রতিনিধি
গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী লাঠিখেলা হাজার বছরের প্রাচীন সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের অন্যতম অনুষঙ্গ। এসব ঐতিহ্যবাহী খেলাধুলা ও লোকজ সংস্কৃতি সংরক্ষণ, চর্চা এবং বিকাশে সরকার নিরলসভাবে কাজ করছে বলে জানিয়েছেন সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী।
শুক্রবার (৬ নভেম্বর) বিকেলে মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলার ডুমুরশিয়া ডিসি মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে ১০৬তম ঐতিহ্যবাহী লাঠিখেলা, মেলা ও বিচার গানের অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় গ্রামীণ লোকসংস্কৃতির বিকাশ ও প্রসারে দেশব্যাপী বাউলগান, লোকসংগীত, জীবনমুখী যাত্রাপালা, সার্কাসসহ নানা দেশীয় সাংস্কৃতিক আয়োজন ছড়িয়ে দিতে কাজ করছে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়। এসব আয়োজনের মাধ্যমে সমৃদ্ধ গ্রামীণ ঐতিহ্য নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরাই সরকারের লক্ষ্য।
তিনি আরও বলেন, লাঠিখেলা ও নৌকাবাইচের মতো গ্রামীণ আয়োজন শুধু বিনোদনের মাধ্যম নয়; এগুলো আমাদের ইতিহাস, ঐতিহ্য, সামাজিক সম্প্রীতি ও সামষ্টিক আনন্দের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এসব ঐতিহ্য টিকিয়ে রাখতে স্থানীয় জনগণ, আয়োজক ও সংস্কৃতিকর্মীদের সম্মিলিতভাবে এগিয়ে আসতে হবে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন মাগুরার জেলা প্রশাসক মোতাকাব্বীর আহমেদ ও মহম্মদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বেদবতী মিস্ত্রী।
ডুমুরশিয়া বাজার বণিক সমিতির সভাপতি মো. আবুল হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট রোকুনুজ্জামান খান, মহম্মদপুর উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক মো. মৈমুর আলী মৃধা, সাবেক সাধারণ সম্পাদক ড. রইচ উদ্দীন, বিএনপি নেতা মো. নজরুল ইসলাম, যুবদল নেতা মো. তরিকুল ইসলাম তারা ও তানজির রহমান সোহাগসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
আয়োজকেরা জানান, এবারের মেলায় বিভিন্ন জেলা থেকে ২২টি লাঠিখেলার দল অংশ নিয়েছে। এর মধ্যে শ্রীপুরের সোনাইকুন্ডি গ্রামের জামাল সর্দার (৭৫) দীর্ঘ ৫৫ বছরের বেশি সময় ধরে লাঠিখেলায় যুক্ত রয়েছেন। অন্যদিকে কামারখালীর গয়েশপুর গ্রামের নিহাল সর্দার প্রায় ৫০ বছর ধরে এ খেলা করছেন। তিনি জানান, বাপ-দাদার ঐতিহ্য ধরে রাখতেই এ খেলা চালিয়ে যাচ্ছেন।
ঐতিহ্যবাহী এ লাঠিখেলা দেখতে মাঠে ভিড় করেন হাজার হাজার ক্রীড়াপ্রেমী দর্শক। মেলাকে ঘিরে স্থানীয় মানুষের মধ্যে সৃষ্টি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ।

