আক্তারুজ্জামান বাচ্চু,সাতক্ষীরা
নিজ মাছের ঘেরে কাজ করার সময়ে সাতক্ষীরা সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে আহত হয়েছেন আলমগীর হোসেন (৩৫)। গুরুতর আহতাবস্থায় তাকে উদ্ধার করে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে ভর্তি করেছেন স্থানীয়রা। আলমগীর হোসেনের বাড়ি সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ভোমরা ইউনিয়নের লক্ষ্মীদাঁড়ি গ্রামে। তিনি শেখ আবু সাঈদের ছেলে।
সোমবার (০৪ আগষ্ট) ভোরে লক্ষ্মীদাঁড়ি সীমান্তে এই ঘটনা ঘটে।আহত আলমগীর হোসেনের ভাগ্নে বেল্লাল হোসেন জানান, তার মামার (আলমগীর হোসেন) লক্ষ্মীদাড়ি সীমান্তের শুন্য লাইনে বাংলাদেশ অভ্যন্তরে একটি মাছের ঘের রয়েছে।
রোববার রাতে অনেক বৃষ্টি হওয়ায় তিনি ভোরে তার ঘেরে যান মাটি দিয়ে বাঁধ উঁচু করার জন্য। এসময় ভারতের
১০২ কল্যাণী বিএসএফ ব্যাটালিয়নের ঘোজাডাঙ্গা ক্যাম্পের টহলদল কয়েক রাউন্ড গুলি ছোড়ে। গুলিতে তিনি মারাত্মক আহত হয়েছেন। বিষয়টি জানতে পেরে স্থানীয়দের সহায়তায় আলমগীর হোসেনকে উদ্ধার করে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে
হাসপাতালের দায়িত্বরত চিকিৎসক ও নার্সর জানিয়েছেন,গুলির অসংখ্য ছাররা আলমগীর হোসেনের মুখ, চোখ, কান, মাথা ও ঘাড়ে বিদ্ধ হয়েছে।
বর্তমানে তিনি আশঙ্কাজনক অবস্থায় রয়েছেন। তাকে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল বা খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার জন্য রোগীর স্বজনদের বলা হয়েছে।
এদিকে, সীমান্তের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, ঘটনার সময়ে কতিপয় চোরাকারবারিকে ঘোজাডাঙ্গা ক্যাম্পের বিএসএফ সদস্যরা ধাওয়া করেন। বিএসএফ এর কবল থেকে ওই সমস্ত চোরাকারবারীরা পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। এসময় ঘেরে কাজ করার সময় বিএসএফ সদস্যরা আলমগীর হোসেনকে চোরাকারবারি ভেবে আটক করার চেষ্টা করলে তিনি বিএসএফ সদস্যদের সাথে তর্কে লিপ্ত হন। একপর্যায়ে বিএসএফ সদস্যরা তাকে শর্টগান দিয়ে গুলি করেন। এরপর গুলিবিদ্ধ আলমগীর হোসেন দৌড়ে পালানোর সময় রাস্তায় পড়ে যান।
পরে স্থানীয়রা উদ্ধার করে আলমগীরের পরিবারের সদস্যদের জানান। সাতক্ষীরা ৩৩ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্ণেল মোঃ আশরাফুল হক জানিয়েছেন, এঘটনায় বিজিবির পক্ষ থেকে বিএসএফের কাছে প্রতিবাদপত্র প্রেরণের প্রস্তুতি চলছে।

