মনিরামপুর (যশোর) প্রতিনিধি
যশোরের মনিরামপুর উপজেলার গোবিন্দপুর-তেঘরী আদর্শ মহিলা আলিম মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আব্দুল হাইয়ের বিরুদ্ধে অনিয়মের মাধ্যমে গোপনে প্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডি ও তিনটি শিক্ষক পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের অভিযোগ উঠেছে।
রোববার (৭ সেপ্টেম্বর) এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে দুটি লিখিত অভিযোগ করেছেন স্থানীয় ৭নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি হারুন অর রশিদ এবং অভিভাবক প্রতিনিধি আব্দুল হালিম।
অভিযোগে জানা যায়, উপজেলার খানপুর ইউনিয়নের গোবিন্দপুর গ্রামে অবস্থিত এই মহিলা আলিম মাদ্রাসায় নিয়মিত গভর্নিং বডির কমিটি গঠনের সময় অধ্যক্ষ আব্দুল হাই তার পছন্দের একজনকে গোপনে সভাপতি মনোনীত করেন। এছাড়া অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষ এবং অফিস সহকারী কাম-কম্পিউটার অপারেটর পদে নিয়োগের জন্য হাতে লেখা বিজ্ঞপ্তি স্থানীয় একটি পত্রিকায় প্রকাশ করা হয় বলে দাবি করা হলেও, এলাকার কেউ সেই পত্রিকা খুঁজে পাচ্ছেন না।
স্থানীয় চাকরিপ্রত্যাশী ও তাদের অভিভাবকদের অভিযোগ— যখন তারা নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিটি কোন পত্রিকায় প্রকাশ করা হয়েছে তা জানতে অধ্যক্ষের কাছে যান, তখন তিনি পত্রিকার নাম জানাতে অস্বীকৃতি জানান এবং বিস্তারিত জানাতে আগ্রহও দেখাননি। ফলে প্রার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা ছড়িয়ে পড়ে।
এ বিষয়ে অফিস সহকারী কাম-কম্পিউটার অপারেটর পদে আবেদন করতে ইচ্ছুক দুজন প্রার্থীর অভিভাবক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে পুনরায় পত্রিকার নাম ও তারিখ উল্লেখ করে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন।
অভিযোগকারীরা আরও জানান, চলতি মাসের ১ সেপ্টেম্বর মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড নিয়মিত গভর্নিং বডির অনুমোদন দিলেও অধ্যক্ষ দাবি করছেন, ৩ সেপ্টেম্বর প্রথম মিটিং হয়েছে। অথচ সেই মিটিং সম্পর্কে প্রতিষ্ঠানটির কোনো শিক্ষক বা বডির সদস্যরা কিছু জানেন না। তিনি আরও বলেন, ৫ সেপ্টেম্বর পত্রিকায় নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে— কিন্তু কেউ তা খুঁজে পাচ্ছে না।
এই বিষয়ে জানতে চাইলে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আব্দুল হাই বলেন,
“যেহেতু নিয়োগ প্রক্রিয়া এনটিআরসিএ’র মাধ্যমে সম্পন্ন হবে, তাই দ্রুত বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে। তবে কোনো অনিয়ম বা গোপনীয়তা ছিল না।”
প্রতিষ্ঠানের সভাপতি হোসাইন আহমেদ বলেন,
“সবকিছু নিয়মতান্ত্রিকভাবে হয়েছে। কেউ যদি পত্রিকা না পায়, তাহলে কি আমি তাদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে পত্রিকা দেব?”
এ বিষয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জিল্লুর রশিদ বলেন,
“অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযুক্ত শিক্ষককে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হচ্ছে। পরবর্তীতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নিশাত তামান্না বলেন,
“অভিযোগটি এখনো হাতে পাইনি। তবে বিষয়টি শুনেছি। অভিযোগ হাতে পেলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

