আক্তারুজ্জামান বাচ্চু, সাতক্ষীরা
সাতক্ষীরা শহরের প্রাণকেন্দ্র মুনজিতপুরে অবস্থিত মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রটি একসময় ছিল জেলার গর্ভবতী নারী ও নবজাতকদের নির্ভরতার জায়গা। প্রতিদিন শত শত মা ও শিশু এই কেন্দ্রে সেবা নিতে এলেও বর্তমানে তারা চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। কারণ, দীর্ঘদিন ধরে এখানকার অপারেশন থিয়েটারের গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রপাতি নষ্ট, রয়েছে ওষুধ ও প্রয়োজনীয় জনবলের তীব্র সংকট। যার ফলে এক বছরেরও বেশি সময় ধরে সিজারিয়ান অপারেশন বন্ধ রয়েছে। বন্ধ রয়েছে জীবন রক্ষাকারী ওষুধ সরবরাহও।
এমন পরিস্থিতিতে সীমিত পরিসরে নরমাল ডেলিভারি চালু থাকলেও, গর্ভবতী নারীরা পাচ্ছেন না প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও ওষুধ সেবা। এতে করে অনেকে বাধ্য হয়ে ব্যয়বহুল বেসরকারি ক্লিনিকে ছুটছেন।
মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রের নবনিযুক্ত মেডিকেল অফিসার (অতিরিক্ত দায়িত্বে এনেসথেসিয়া) ডা. আশরাফ ছিদ্দিকী বলেন, “অপারেশন থিয়েটারের জেনারেল এনেসথেসিয়া (GA) মেশিন, কার্ডিয়াক মনিটর ও ওটি লাইটসহ গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রপাতি দীর্ঘদিন ধরে নষ্ট হয়ে রয়েছে। এ ছাড়া রোগীর জন্য প্রয়োজনীয় জীবন রক্ষাকারী ওষুধের সরবরাহ বন্ধ। ফলে সিজারিয়ান অপারেশন সম্ভব হচ্ছে না। পাশাপাশি লোকবলেরও ঘাটতি রয়েছে।”
তিনি আরও জানান, আল্ট্রাসনোগ্রামের দায়িত্বে থাকা ডা. পলাশ দত্তকে সম্প্রতি শ্যামনগর উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ে বদলি করা হয়েছে। এতে করে গর্ভবতী মায়েরা আল্ট্রাসনোগ্রাম সেবা থেকেও বঞ্চিত হচ্ছেন।
দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই তিনি সেবা কেন্দ্রের সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে সমাধানের লক্ষ্যে উদ্যোগ নিয়েছেন বলে জানান ডা. আশরাফ। এরই মধ্যে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি, ওষুধ এবং জনবল চেয়ে লিখিত আবেদন পাঠানো হয়েছে। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, “যত দ্রুত সরকারের পক্ষ থেকে সমস্যার সমাধান হবে, তত দ্রুত জেলার মা ও শিশুরা উপকৃত হবেন।”
এদিকে, সেবা নিতে আসা কয়েকজন গর্ভবতী নারী জানান, এর আগেও তারা এই কেন্দ্র থেকে বিনামূল্যে সিজারিয়ান অপারেশন ও ওষুধ পেয়েছেন। কিন্তু বর্তমানে সব কার্যক্রম বন্ধ থাকায় তারা গভীর উদ্বেগে রয়েছেন। তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দ্রুত সমস্যাগুলোর সমাধান দাবি করেছেন।
এমতাবস্থায়, সাতক্ষীরা জেলার গর্ভবতী নারী ও শিশুদের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন সাধারণ মানুষ ও স্বাস্থ্যসেবা সংশ্লিষ্টরা।

