অশোক মুখার্জি, কলাপাড়া (পটুয়াখালী)
পটুয়াখালীর মহিপুরে ডাক্তার না হয়েও চিকিৎসা দিয়ে যাচ্ছেন হারুন-অর-রশীদ নামে এক ব্যক্তি। ভাইয়ের ব্যবস্থাপত্র ব্যবহার করে নিজে চক্ষু রোগের চিকিৎসা করছেন তিনি। নামের আগে ‘ডাক্তার’ লেখা, মোবাইল ফোনে ছবি পাঠিয়ে প্রেসক্রিপশন তৈরি, রোগীদের বিভ্রান্ত করে ভিজিট নেওয়া—এসব অনিয়ম দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছে স্থানীয় একটি ক্লিনিকে।
ঘটনাটি ঘটছে মহিপুর সদরের এশিয়া ডেন্টাল কেয়ার-এ, যেখানে হারুন-অর-রশীদ নিজেকে একজন দন্ত চিকিৎসক দাবি করলেও রোগীদের চোখের চিকিৎসাও দিয়ে থাকেন—ভাই চক্ষু চিকিৎসক ডাঃ আব্দুল হাকিমের নাম ব্যবহার করে।
গতকাল মঙ্গলবার (৯ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ৪ বছরের শিশু আদনানকে চোখের সমস্যা নিয়ে চিকিৎসা করাতে গেলে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। শিশুটির পরিবার জানায়, তারা মনে করেছিলেন চিকিৎসক ডাঃ হাকিমের পরামর্শ পাচ্ছেন, কিন্তু পরে জানা যায়, চিকিৎসা দিয়েছেন তার ভাই হারুন, হাকিমের প্যাড ব্যবহার করে।
জিজ্ঞাসাবাদে হারুন স্বীকার করেন, তিনি সরাসরি চিকিৎসক নন। ভাইয়ের অনুমতি নিয়ে রোগীর ছবি তুলে হোয়াটসঅ্যাপে পাঠিয়ে তার লেখা অনুযায়ী ওষুধ লিখে দেন। তবে তিনি এটি আইনসিদ্ধ কি না, তা বলতে পারেননি।
স্থানীয়রা জানান, এটি কোনো নতুন ঘটনা নয়। দীর্ঘদিন ধরেই এশিয়া ডেন্টালে এমন প্রতারণা চলে আসছে। সেরাজপুরের বাসিন্দা মো. শাহ-জাহান কাজী বলেন, “হারুন দাঁতের চিকিৎসা ভুল করে অন্য দাঁত তুলেছে, সে আবার চোখের চিকিৎসা কীভাবে করে?”
অন্য এক স্থানীয় সোহেল হাওলাদার বলেন, “ভাই চোখের ডাক্তার, হারুন দাঁতের, কিন্তু ভাইয়ের নামেই সে চোখের চিকিৎসা করে। এতে অনেক রোগী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।”
এ বিষয়ে কলাপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ শংকর প্রসাদ অধিকারী বলেন, “এ ধরনের চিকিৎসা কার্যক্রম সম্পূর্ণ বেআইনি। বিষয়টি তদন্ত করে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হবে।”
পটুয়াখালী জেলা সিভিল সার্জন ডাঃ খালেদুর রহমান মিয়া বলেন, “অন্য কারও প্যাড ব্যবহার করে চিকিৎসা দেওয়া অপরাধ। আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
অভিযোগের বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে ডাঃ আব্দুল হাকিম ফোনে কথা বলতে অস্বীকৃতি জানান এবং দেখা করতে বলেন।
এদিকে এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী ও ভুক্তভোগীরা দ্রুত প্রশাসনিক তদন্ত ও হারুন ও তার ভাইয়ের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

