রাসেল আহমেদ,খুলনা প্রতিনিধি
খুলনা জেলা আইনজীবী সমিতির মিলনায়তনে শনিবার (১১ অক্টোবর) বেলা ১১টায় অনুষ্ঠিত হয়েছে পলিথিন বর্জনের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান। পরিবেশ রক্ষায় সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে এই শপথ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে গণতান্ত্রিক অধিকার সুরক্ষা মঞ্চ, খুলনা। খুলনায় এ ধরনের উদ্যোগ এবারই প্রথম।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খুলনা জেলা আইনজীবী সমিতির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট আব্দুল্লাহ হোসেন বাচ্চু। সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের আহ্বায়ক ও খুলনা আয়কর আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট খান মনিরুজ্জামান।
বিশেষ অতিথি ছিলেন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন প্রধান মেডিকেল অফিসার ডা. এ কে এম কামরুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন নির্বাহী কমিটির সদস্য সচিব কাজী মোতাহার রহমান বাবু, সদস্য অ্যাডভোকেট মো. মমিনুল ইসলাম ও সরদার আবু তাহের। সঞ্চালনা করেন অ্যাডভোকেট মো. জোবায়ের শেখ।
সভায় খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাম্প্রতিক গবেষণার উদ্ধৃতি দিয়ে বক্তারা জানান, সুন্দরবনের প্রধান তিনটি নদনদীতে ১৭ প্রজাতির মাছ ও তিন প্রজাতির শামুক-ঝিনুকের শরীরে মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া গেছে। এমনকি কিছু মাছের পেটে পলিথিনের টুকরাও শনাক্ত হয়েছে। বক্তারা বলেন, পলিথিনের রাসায়নিক বিষক্রিয়ায় মাটি, বায়ু ও পানি দূষিত হচ্ছে; ভূপৃষ্ঠের তাপমাত্রা বাড়ছে, যা জলবায়ু পরিবর্তনের পাশাপাশি ভূমিকম্প ও বজ্রপাতের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।
গবেষণার তথ্য তুলে ধরে বক্তারা জানান, দেশে প্রতিদিন প্রায় ২৪ হাজার মেট্রিক টন পলিথিন বর্জ্য উৎপন্ন হচ্ছে, যা মাটির উর্বরতা হ্রাস, নদীর নাব্যতা কমে যাওয়া এবং জলাবদ্ধতার মতো সমস্যা সৃষ্টি করছে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বিজ্ঞান সাময়িকী ওয়াটার, এয়ার, সয়েল পলিউশন-এর এক প্রতিবেদনের বরাতে তারা বলেন, বাংলাদেশের ইলিশ মাছেও মাইক্রোপ্লাস্টিক শনাক্ত হয়েছে, যা মানুষের জন্য ক্যান্সারসহ নানা রোগের ঝুঁকি বাড়ায়।
বক্তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেন, ২০৬০ সালের মধ্যে বিশ্বব্যাপী প্লাস্টিক ব্যবহারের পরিমাণ তিনগুণে পৌঁছাতে পারে, আর ২০৪০ সালের মধ্যে মাটি ও পানিতে প্লাস্টিক বর্জ্যের পরিমাণ ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পাবে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত আইনজীবীরা পলিথিন ব্যবহার সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করার শপথ নেন এবং প্রতিবেশী ও স্বজনদেরও এ বিষয়ে সচেতন করতে প্রতিশ্রুতি দেন। তারা পলিথিনের উৎপাদন, বিক্রি ও বাজারজাতকরণ বন্ধে পরিবেশ অধিদপ্তরকে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান এবং ১৯৯৫ সালের পরিবেশ সংরক্ষণ আইন যথাযথভাবে বাস্তবায়নের দাবি তোলেন।
সভা শেষে খুলনা জেলা আইনজীবী সমিতির আহ্বায়ক জানান, এ মাসের মধ্যেই শতাধিক আইনজীবী পলিথিন বর্জনের শপথ গ্রহণ করবেন। তিনি বলেন, “যদি আমরা সবাই সচেতন হই, তবে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য খুলনাকে একটি বাসযোগ্য শহর হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব।

