আশাশুনি (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি
সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার দরগাহপুর এসকেআরএইস কলেজিয়েট স্কুল এসএসসি পরীক্ষা কেন্দ্রে এক পরীক্ষার্থীকে ভুল গ্রুপের প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি নিয়ে অভিভাবক ও স্থানীয়দের মধ্যে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
জানা গেছে, কাদাকাটি আইডিয়াল মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের ছাত্রী খাদিজা পারভিন মাহি এবছর এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে। তার রেজিস্ট্রেশন নম্বর ২৩১৩৮৮৪১১৫ এবং রোল নম্বর ২৭২১৮৭। সে দীর্ঘদিন ধরে বাণিজ্য বিভাগে পড়ালেখা ও স্কুলের অভ্যন্তরীণ পরীক্ষায় অংশ নিলেও তার প্রবেশপত্রে মানবিক বিভাগ উল্লেখ রয়েছে।
রবিবার (১০ মে) পরীক্ষাকেন্দ্রে তাকে মানবিক বিভাগের ইতিহাস বিষয়ের প্রশ্নপত্র দেওয়া হয়। প্রশ্নপত্র হাতে পেয়ে খাদিজা জানায়, সে বাণিজ্য বিভাগের ছাত্রী এবং ফিন্যান্স বিষয়ের প্রশ্নপত্র চায়। কিন্তু প্রবেশপত্রে মানবিক বিভাগ উল্লেখ থাকায় কেন্দ্র কর্তৃপক্ষ তাকে ইতিহাস পরীক্ষাতেই অংশ নিতে বলে। এতে প্রস্তুতি ছাড়াই সম্পূর্ণ ভিন্ন বিষয়ের পরীক্ষায় অংশ নিতে বাধ্য হয় ওই শিক্ষার্থী।
খাদিজার মা মুক্তা অভিযোগ করে বলেন, “আমার মেয়ে কমার্স বিভাগে পড়ালেখা করেছে এবং স্কুলেও সেই বিভাগের পরীক্ষাগুলো দিয়েছে। প্রবেশপত্রে কী লেখা আছে আমরা খেয়াল করিনি, শিক্ষকরাও বিষয়টি জানাননি। আজ তাকে না পড়া বিষয়ে পরীক্ষা দিতে বাধ্য করা হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সন্ধ্যায় দেখা করতে বলেছেন। পরে তাদের বক্তব্য শুনে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে কাদাকাটি আইডিয়াল মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এখলাছুর রহমান বলেন, “এ ধরনের ঘটনার বিষয়ে আমি অবগত নই।”
পরীক্ষা কমিটির সদস্য ও সিনিয়র শিক্ষক শুভঙ্কর বিশ্বাস বলেন, “খাদিজার প্রবেশপত্রে মানবিক বিভাগ লেখা থাকলেও সে বাণিজ্য বিভাগে পড়ালেখা করেছে এবং সেই অনুযায়ী প্রস্তুতি নিয়েছে বলে জানিয়েছে। এটি কেন্দ্র কর্তৃপক্ষের ভুল নয়, বরং স্কুল কর্তৃপক্ষ ও পরীক্ষার্থীর বিষয়।”
কেন্দ্র সচিব জি এম আনোয়ার হোসেন বলেন, “নিয়ম অনুযায়ী পরীক্ষার্থীদের গ্রুপভিত্তিক প্রশ্নপত্র দেওয়া হয়। পরীক্ষা শুরুর ১০-১৫ মিনিট পর ওই ছাত্রী কমার্সের প্রশ্নপত্র দাবি করে। বিষয়টি বোর্ড প্রতিনিধি ও ইউএনও প্রতিনিধির সঙ্গে আলোচনা করে তাকে ইতিহাস পরীক্ষায় অংশ নিতে বলা হয়েছে। এখানে কেন্দ্র কর্তৃপক্ষের করার কিছু ছিল না।”
তবে ভুলটি কার—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “এ বিষয়ে স্কুল কর্তৃপক্ষই ভালো বলতে পারবে।”

