Nabadhara
ঢাকাশনিবার , ২ মে ২০২৬
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. ইতিহাস
  5. কৃষি
  6. খুলনা বিভাগ
  7. খেলাধুলা
  8. চট্টগ্রাম বিভাগ
  9. জাতীয়
  10. জামালপুর
  11. জেলার সংবাদ
  12. ঝালকাঠি
  13. ঝিনাইদহ
  14. ঢাকা বিভাগ
  15. তথ্যপ্রযুক্তি
আজকের সর্বশেষ সবখবর

কলাগাছের ভেলায় ভর করে পানিতে ডুবে যাওয়া ধান কাটলেন নারী-পুরুষ-শিশু শ্রমিক

Link Copied!

খালিয়াজুড়ি (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি

নেত্রকোনার হাওরাঞ্চল খালিয়াজুড়ি উপজেলায় শ্রমিক সংকট ও জলাবদ্ধতার কারণে শেষ সম্বল বাঁচাতে কলাগাছের বেলা ব্যবহার করে পানির মধ্য থেকে ধান কেটে ঘরে তুলেছেন এক কৃষক পরিবারের সদস্যরা।

শনিবার (২ মে ) সকালে উপজেলার মেন্দিপুর ইউনিয়নের জিয়াখড়া গ্রামের কৃষক শচীন্দ্র দাসের পরিবারের সদস্যরা নারী, পুরুষ ও শিশু মিলে রোয়াইল হাওরের পানিতে তলিয়ে যাওয়া জমি থেকে ধান কেটে বাড়িতে নিয়ে আসেন। জানা যায়, শচীন্দ্র দাস তার ৮ কাঠা জমিতে বোরো ধান আবাদ করেছিলেন। কিন্তু টানা বৃষ্টিতে সেই জমির ধান পানির নিচে তলিয়ে যায়।

ধান কাটার জন্য শ্রমিক খুঁজেও না পেয়ে অবশেষে দিশেহারা হয়ে পরিবার-পরিজন নিয়ে নিজেরাই মাঠে নামেন তিনি। তার স্ত্রী সীমা রাণী দাস, ভাই বজেন্দ্র দাস, ভাবি দীপালী রাণী দাস, কলেজপড়ুয়া ছেলে প্রয়ন্ত দাস এবং স্কুলপড়ুয়া জয়ন্ত দাসসহ সবাই মিলে কলাগাছের বেলা বানিয়ে পানির মধ্যে নেমে ধান কাটেন।

শচীন্দ্র দাস জানান, “আমরা গরিব মানুষ। ধান পানিতে ডুবে যাওয়ায় বেশি মজুরি দিয়েও শ্রমিক পাইনি। তাই পরিবারের সবাই মিলে নিজের ধান নিজেরাই কেটে আনলাম। এতে দুই-তিন মাস খেতে পারব, বাকিটা আল্লাহ ভরসা।”

নারী শ্রমিক সীমা রাণী দাস ও দীপালী রাণী দাস বলেন, “কোনো শ্রমিক পাই নাই। ধান ডুবে যাচ্ছিল, তাই নিজেরাই কেটে আনতে হয়েছে। ধান না থাকলে খাব কী? আমরা কাজ করে খাই।”

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. দেলোয়ার হোসেন জানান, খালিয়াজুড়িতে ৮৯টি হাওরে প্রায় ২০ হাজার ২৩২ হেক্টর জমিতে বোরো ধান আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৫৪ শতাংশ ধান কাটা হয়েছে। জলাবদ্ধতায় উল্লেখযোগ্য অংশের ধান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং এখনও কয়েক হাজার হেক্টর জমির ধান কাটা বাকি রয়েছে।

তিনি বলেন, “শচীন্দ্র দাসের পরিবারের মতো সবাই যদি আত্মীয়-স্বজন নিয়ে এগিয়ে আসে, তাহলে দ্রুত ধান কাটা সম্ভব হবে।” নারী শ্রমিকদের অংশগ্রহণকে তিনি বিশেষভাবে প্রশংসা করেন।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক নেতারাও পরিবারের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। তারা বলেন, দুর্যোগ মোকাবেলায় নারী ও শিক্ষার্থীদের এমন অংশগ্রহণ সমাজের জন্য ইতিবাচক বার্তা বহন করে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাদির হোসেন শামীম বলেন, “পরিবারের সবাই মিলে পানিতে নেমে ধান কেটে আনা সত্যিই প্রশংসনীয়। সবাই একসাথে কাজ করলে যেকোনো দুর্যোগ মোকাবেলা করা সম্ভব।”

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।