মনিরামপুর (যশোর) প্রতিনিধি
যশোরের মনিরামপুরে হরিহর নদীর মাটি নিলামের অতিরিক্ত অর্থ ভাগাভাগিকে কেন্দ্র করে জামায়াত ও বিএনপির মধ্যে তুমুল সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনাকে ঘিরে উভয় পক্ষ একে অপরকে দায়ী করে পাল্টাপাল্টি বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে। এছাড়া থানায় মোট ৫টি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাহির দায়ান আমিন জানান, হরিহর নদী খননের পর দুই তীরের অতিরিক্ত মাটি চারটি লটে প্রকাশ্য নিলামের মাধ্যমে বিক্রি করা হয়। বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত ওই নিলামে মোট প্রায় ৫০ লাখ ঘনফুট মাটি বিক্রি হয় এবং বিভিন্ন দরদাতা টেন্ডার পান।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নিলামের পর রাতে আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে বিএনপি ও জামায়াতের সংশ্লিষ্ট মাটি ব্যবসায়ীদের মধ্যে অতিরিক্ত প্রায় ১০ লাখ টাকা ‘নেগোসিয়েশন’ বা লাভের অর্থ ভাগাভাগি নিয়ে বিরোধ সৃষ্টি হয়। সেখানে শতাধিক নেতাকর্মীর উপস্থিতিতে টাকা বিতরণের সময় কিছু লোক বঞ্চিত হলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
এরপর রাত আটটার দিকে তরকারি বাজার এলাকায় সংঘর্ষ শুরু হয়, যা কেন্দ্রীয় মসজিদ ও উপজেলা জামায়াতের কার্যালয়ের সামনে পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে। এতে জামায়াত ও বিএনপির অন্তত ১৫ জন আহত হন। আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে মনিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।
ঘটনার পর উভয় পক্ষ একে অপরের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ করেছে। উপজেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি আহসান হাবিব লিটন দাবি করেন, বিএনপির লোকজন তাদের ওপর হামলা চালিয়েছে। অন্যদিকে বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান মিন্টু বলেন, জামায়াতের হামলাতেই প্রথম সংঘর্ষের সূত্রপাত ঘটে।
এদিকে সংঘর্ষের প্রতিবাদে জামায়াত ও বিএনপি পৃথকভাবে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে। জামায়াত পক্ষ প্রশাসনকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে দোষীদের গ্রেফতারের আল্টিমেটাম দিয়েছে।
মনিরামপুর থানার ওসি আবু সাঈদ জানান, সংঘর্ষের ঘটনায় উভয় পক্ষ থেকে মোট ৫টি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। এর মধ্যে জামায়াতের পক্ষ থেকে ২টি এবং বিএনপির পক্ষ থেকে ৩টি অভিযোগ করা হয়েছে। অভিযোগগুলো তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

