নিজস্ব প্রতিবেদক, গাজীপুর
বাংলাদেশে খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জলবায়ু সহনশীল ধানের নতুন জাত উদ্ভাবনে জিনোম এডিটিং প্রযুক্তির সম্ভাবনা নিয়ে গাজীপুরে দিনব্যাপী একটি গুরুত্বপূর্ণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার গাজীপুরের ব্র্যাক এগ্রিকালচারাল রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট সেন্টারে “জিনোম এডিটিংয়ের মাধ্যমে জলবায়ু সহনশীল ধানের জাত উন্নয়ন” শীর্ষক এ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশ বিজ্ঞান একাডেমির অধীনে ইঅঝ-টঝউঅ-চঅখ অর্থায়িত একটি বিশেষ গবেষণা প্রকল্পের অংশ হিসেবে এ আয়োজন করা হয়।
কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন প্রকল্পের সমন্বয়ক, বাংলাদেশ বিজ্ঞান একাডেমির ফেলো এবং গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্র্যাজুয়েট স্টাডিজ অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. মো. তোফাজ্জল ইসলাম। প্রধান অতিথি ছিলেন গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. জিকেএম মোস্তাফিজুর রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জীবপ্রযুক্তিবিদ প্রফেসর হাসিনা খান।
বক্তারা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় টেকসই কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আধুনিক জিনোম এডিটিং প্রযুক্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বিশেষ করে লবণাক্ততা, খরা, অতিবৃষ্টি ও রোগবালাই সহনশীল ধানের জাত উদ্ভাবনে এ প্রযুক্তি বাংলাদেশের কৃষিতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দেবে।
অনুষ্ঠানের প্রথম কারিগরি অধিবেশনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, ইন্ডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ এবং সুপ্রিম সিড কোম্পানি লিমিটেডের সাতজন প্রধান গবেষক তাদের চলমান গবেষণার অগ্রগতি উপস্থাপন করেন।
দ্বিতীয় অধিবেশনে অধ্যাপক মাহমুদুল হাসান ও অধ্যাপক ড. তোফাজ্জল ইসলাম গাইড-আরএনএ ডিজাইন, ধানের জাত উন্নয়নে জিনোম এডিটিংয়ের ব্যবহার এবং জীবননিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। পরে গবেষক ও বিশেষজ্ঞরা প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাব্য সমাধান নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।
কর্মশালায় ব্র্যাক সীড, লাল তীর সীড লিমিটেড, ট্রপিক বায়োসায়েন্স (যুক্তরাজ্য), বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট, সিমিটসহ দেশি-বিদেশি প্রায় ৪০ জন গবেষক, বিশেষজ্ঞ, শিল্প প্রতিনিধি ও শিক্ষার্থী অংশ নেন।
প্রকল্পের আওতায় উচ্চ ফলনশীল, লবণাক্ততা ও খরা সহনশীল, রোগ প্রতিরোধী এবং জলবায়ু-স্মার্ট ধানের জাত উদ্ভাবনের কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে বলে জানানো হয়। পাশাপাশি আগামী তিন বছরে জিনোম-এডিটেড ধানের নতুন জাত উদ্ভাবন ও বাণিজ্যিকীকরণের লক্ষ্যে সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
আয়োজকরা আশা প্রকাশ করেন, শিক্ষা ও গবেষণা খাতের এই সমন্বিত উদ্যোগ ভবিষ্যতে বাংলাদেশের কৃষিকে আরও টেকসই করবে এবং খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

