রাসেল আহমেদ ,খুলনা প্রতিনিধি
খুলনা সিভিল সার্জন কার্যালয়ে একের পর এক অনিয়ম, প্রশাসনিক ত্রুটি এবং ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ ঘিরে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। টিকাদান কার্যক্রমে তথ্য গরমিল, দাপ্তরিক চিঠিতে গুরুতর ভাষাগত ভুল এবং ডায়াগনস্টিক সেন্টারের লাইসেন্স নবায়নে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগে স্বাস্থ্য প্রশাসনে অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, গত ১৩ মে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) একটি প্রতিনিধিদল বটিয়াঘাটা উপজেলার ইপিআই স্টোর পরিদর্শনকালে একাধিক অনিয়মের প্রমাণ পায়। দীর্ঘদিন স্টক রেজিস্টার হালনাগাদ না থাকা, টিকা ব্যবহারের ভায়াল ও নথিপত্রে অসামঞ্জস্য এবং হাম-রুবেলা ক্যাম্পেইনের হিসাবেও বড় ধরনের গরমিল ধরা পড়ে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, কাগজে-কলমে ১৩ হাজার ৫০০ জনকে টিকা দেওয়ার তথ্য থাকলেও ব্যবহৃত ভায়ালের সংখ্যার সঙ্গে তার মিল পাওয়া যায়নি। নথি অনুযায়ী প্রায় ১ হাজার ৪০০ ভায়াল ব্যবহারের কথা থাকলেও বাস্তবে ৯০০ ভায়ালের ব্যবহার নিশ্চিত হয় এবং ৫৮৬ ভায়াল স্টোরে মজুত পাওয়া যায়। এতে কয়েক হাজার টিকাদান সংক্রান্ত তথ্য নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।
এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট এক মেডিকেল টেকনোলজিস্টকে (ইপিআই) তিন কর্মদিবসের মধ্যে লিখিত জবাব দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অন্যথায় বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানানো হয়েছে।
এছাড়া সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে জারি করা একটি দাপ্তরিক চিঠিতে ‘গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার’-এর আগে ভুলবশত ‘মিথ্যা’ শব্দ যুক্ত হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনা দেখা দেয়।
অন্যদিকে ডায়াগনস্টিক সেন্টারের লাইসেন্স নবায়নে ‘অফিস খরচ’ নামে ৩০ থেকে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঘুষ নেওয়ার অভিযোগও উঠেছে। অভিযোগে বলা হয়, টাকা না দিলে নানা অজুহাতে লাইসেন্স নবায়ন আটকে রাখা হয়, ফলে অনেক প্রতিষ্ঠান হয়রানির শিকার হচ্ছে।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে খুলনার সিভিল সার্জন ডা. মোছা. মাহফুজা খাতুন বলেন, টিকাদানের তথ্যগত ভুলের ঘটনায় সংশ্লিষ্ট কর্মীকে শোকজ করা হয়েছে। দাপ্তরিক চিঠিতে ‘মিথ্যা’ শব্দটি সম্পূর্ণ টাইপিং ভুল বলে দাবি করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, “লাইসেন্স নবায়নে ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ সঠিক নয়। কেউ আমার নাম ব্যবহার করে এমন কিছু করে থাকলে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

