পঞ্চগড় প্রতিনিধি
পঞ্চগড়ে সবচেয়ে বড় পশুর হাট ‘রাজনগড় হাট’ এখন জমজমাট হলেও ক্রেতার তুলনায় গরুর আমদানি বেশি থাকায় বেচাকেনায় কিছুটা স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। ঈদুল আজহা সামনে রেখে হাটে বিপুল সংখ্যক পশু উঠলেও কেনার চেয়ে দেখার মানুষের সংখ্যাই বেশি বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ী ও খামারিরা।
জেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, জেলায় মোট ১৬টি ছোট-বড় পশুর হাট রয়েছে। এর মধ্যে রাজনগড় ও বোদার নগরকুমারী হাট সবচেয়ে বড়। এ বছর জেলায় প্রায় ১৫ হাজারেরও বেশি খামারি কোরবানির জন্য গরু, ছাগল, মহিষ ও ভেড়াসহ মোট ১ লাখ ৩ হাজার ৪৫০টি পশু প্রস্তুত করেছেন। এর মধ্যে মজুদ রয়েছে ১ লাখ ৩০ হাজার ৩০৩টি পশু, ফলে উদ্বৃত্ত রয়েছে প্রায় ২৭ হাজার পশু।
হাটে গিয়ে দেখা যায়, স্থানীয়দের পাশাপাশি উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলা থেকে হাজার হাজার গরু এসেছে। আকারভেদে ২৫ হাজার টাকা থেকে ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত দামে গরু বিক্রি হচ্ছে। তবে বড় গরুর চাহিদা তুলনামূলকভাবে কম।
হাটে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি ইজারাদার কর্তৃক স্বেচ্ছাসেবী এবং জেলা প্রাণিসম্পদ অফিসের ভেটেরিনারি চিকিৎসকরা দায়িত্ব পালন করছেন।
ক্রেতা মনতাজুল ইসলাম বলেন, “গরুর আমদানি বেশি, দাম তুলনামূলক কম। একটি গরু কিনেছি, অন্য জায়গায় বিক্রি করলে লাভ হবে।”
আরেক ক্রেতা মনসুর বলেন, “এবার এখনও কিনতে আসিনি, শুধু দেখতে এসেছি। কয়েকটি হাট ঘুরে তারপর কিনবো। বড় গরুর পরিবর্তে এবার ছোট গরুর চাহিদা বেশি।”
অন্যদিকে গরু ব্যবসায়ী রহমত আলী বলেন, “২২টি গরু নিয়ে এসেছি, কিন্তু এখনো একটাও বিক্রি হয়নি। ক্রেতা কম, সবাই শুধু ঘুরে দেখছে। গত বছর এ সাইজের গরুর দাম ও চাহিদা ভালো ছিল।”
হাটের ইজারাদার আব্দুস সামাদ পলক বলেন, রাজনগড় হাট উত্তরাঞ্চলের অন্যতম বড় পশুর হাট। প্রতি রবিবার ও বৃহস্পতিবার হাট বসে। ক্রেতা ও বিক্রেতাদের নিরাপত্তায় সব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
পঞ্চগড় জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. নূরুল ইসলাম জানান, জেলায় কোরবানির পশুর চাহিদার তুলনায় মজুদ বেশি। হাটে মেডিকেল টিম কাজ করছে এবং পশুর স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া হচ্ছে। তবে এখনই চূড়ান্ত মূল্যায়ন করা যাচ্ছে না, কারণ ঈদের আগ পর্যন্ত কেনাবেচা বাড়তে পারে।

