ফরিদপুর প্রতিনিধি
ফরিদপুরের সালথা উপজেলায় ভ্যানচালককে মারধরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে দু’পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। সংঘর্ষ চলাকালে ১০ থেকে ১৫টি বাড়িঘর ভাঙচুর করা হয়। এছাড়া একটি খড়ির গাদা ও একটি ট্রলিতে আগুন দেওয়ার ঘটনাও ঘটে।
মঙ্গলবার (২৬ মে) বিকেলে উপজেলার গট্টি ইউনিয়নের সিংহপ্রতাপ গ্রামে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, সিংহপ্রতাপ গ্রামের বাসিন্দা ও ভ্যানচালক বাবু তালুকদার (২২) কাউলিকান্দা স্ট্যান্ড এলাকায় গেলে তাকে হাবিবুর রহমান হাবির সমর্থকরা মারধর করে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে কাউলিকান্দা এলাকার হাবিবুর রহমান হাবির পক্ষের সঙ্গে ইব্রাহিম মোল্যা সমর্থিত গ্রুপের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
একপর্যায়ে উভয় পক্ষ দেশীয় অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষের সময় কয়েকটি বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর চালানো হয়। একই সঙ্গে একটি খড়ির গাদা ও একটি ট্রলিতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হলে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয়রা পরে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন।
আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। গুরুতর আহতদের সালথা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও ফরিদপুরের বিভিন্ন ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়েছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে আহতদের নাম-পরিচয় জানা যায়নি।
এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার ও পূর্ব বিরোধকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা চলছিল। ভ্যানচালককে মারধরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে সেই বিরোধ নতুন করে সংঘর্ষে রূপ নেয়।
এদিকে, ইব্রাহিম মোল্যা ও হাবিবুর রহমান হাবি পলাতক থাকায় তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা সাড়া দেননি।
সালথা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. বাবলুর রহমান খান বলেন, সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে।
তিনি আরও বলেন, ঘটনায় জড়িতদের শনাক্তে কাজ চলছে। অভিযোগের ভিত্তিতে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

