Nabadhara
ঢাকাবৃহস্পতিবার , ৪ জুন ২০২৬
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. ইতিহাস
  5. কৃষি
  6. খুলনা বিভাগ
  7. খেলাধুলা
  8. চট্টগ্রাম বিভাগ
  9. জাতীয়
  10. জামালপুর
  11. জেলার সংবাদ
  12. ঝালকাঠি
  13. ঝিনাইদহ
  14. ঢাকা বিভাগ
  15. তথ্যপ্রযুক্তি
আজকের সর্বশেষ সবখবর

মেয়েকে পতিতালয়ে পাঠিয়ে কোটি টাকার জালিয়াতির অভিযোগ মায়ের বিরুদ্ধে

গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি 
জুন ৪, ২০২৬ ১১:৪৬ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি 

গোপালগঞ্জে এক মায়ের বিরুদ্ধে নিজের মেয়েকে বিদেশে পাঠিয়ে শোষণের মুখে ঠেলে দেওয়া এবং দীর্ঘদিনের উপার্জিত অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী কন্যা রুমা বেগম আদালতে মামলা দায়ের করেছেন। তবে অভিযুক্ত মা মরিয়ম বেগম অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

মামলার নথি, স্থানীয় সূত্র ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গোপালগঞ্জ শহরের মৌলভীপাড়া এলাকার বাসিন্দা মরিয়ম বেগমের পরিবার দীর্ঘদিন আর্থিক সংকটে ছিল। অভিযোগ রয়েছে, ২০০৪ সালে ভালো চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে তার বড় মেয়ে রুমা বেগমকে ভারতে পাঠানো হয়। সেখানে গিয়ে তিনি প্রত্যাশিত কাজ না পেয়ে বিভিন্ন প্রতিকূল পরিস্থিতির মুখোমুখি হন।

রুমা বেগমের দাবি, বিদেশে অবস্থানকালে তিনি যে অর্থ উপার্জন করতেন, তার বেশিরভাগই দেশে পরিবারের কাছে পাঠাতেন। সেই অর্থ দিয়ে পরিবারের বিভিন্ন সদস্যের উন্নয়ন, জমি ক্রয়, বাড়ি নির্মাণসহ নানা কাজ করা হয়। কিন্তু দেশে ফিরে তিনি নিজের অর্থ ফেরত চাইলে তা পাননি।

অভিযোগ অনুযায়ী, রুমার পাঠানো অর্থে তার ভাইকে বিদেশে পাঠানো, জমি কেনা, সঞ্চয়পত্র ক্রয়সহ বিভিন্ন বিনিয়োগ করা হয়। পরবর্তীতে আরও অর্থ নেওয়ার জন্য নানা প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও নির্ধারিত সময়ে অর্থ ফেরত দেওয়া হয়নি।

রুমা বেগম জানান, সর্বশেষ ৪০ লাখ টাকা ধার নেওয়ার বিপরীতে তার মা একটি ব্যাংক চেক দেন। কিন্তু চেকটি ব্যাংকে জমা দিলে পর্যাপ্ত অর্থ না থাকায় সেটি প্রত্যাখ্যাত হয়। এরপর তিনি আদালতের শরণাপন্ন হন।

এদিকে মামলার পর মরিয়ম বেগমও মেয়ে ও জামাতার বিরুদ্ধে পাল্টা মামলা দায়ের করেন। মামলায় তিনি দাবি করেন, তার স্বামী জীবদ্দশায় পরিবারের জন্য বিভিন্ন সঞ্চয়পত্র কিনেছিলেন এবং সেসব বিষয়ে ভুল বোঝাবুঝি থেকে বিরোধ সৃষ্টি হয়েছে।

তবে মামলার নথি ও স্থানীয় সূত্রের তথ্যমতে, মরিয়ম বেগমের স্বামী কাওছার শেখ ২০১৩ সালে মারা যান। অথচ পাল্টা মামলায় ২০২১ ও ২০২২ সালে তার নামে সঞ্চয়পত্র কেনার দাবি করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় নানা প্রশ্ন ও আলোচনা তৈরি হয়েছে।

স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, পরিবারটি একসময় আর্থিকভাবে দুর্বল ছিল। পরবর্তীতে তাদের আর্থিক অবস্থার উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন ঘটে। তবে এ পরিবর্তনের উৎস নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই নানা আলোচনা রয়েছে।

ভুক্তভোগী রুমা বেগম বলেন, “আমি আমার উপার্জনের টাকা পরিবারের উন্নয়নের জন্য দিয়েছিলাম। এখন সেই অর্থ ফেরত চাইতে গিয়ে নানা সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছি। আমি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার চাই।”

অন্যদিকে মরিয়ম বেগম বলেন, “আমার মেয়ের কোনো টাকা আমার কাছে নেই। আমার স্বামী জীবিত থাকতেই পরিবারের জন্য যা করার করেছেন। টাকার লোভে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ আনা হয়েছে।”

এ বিষয়ে মামলাটি বর্তমানে বিচারাধীন রয়েছে। অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে আদালতের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একটি সূত্র জানিয়েছে, আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।