Nabadhara
ঢাকাশুক্রবার , ৫ জুন ২০২৬
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. ইতিহাস
  5. কৃষি
  6. খুলনা বিভাগ
  7. খেলাধুলা
  8. চট্টগ্রাম বিভাগ
  9. জাতীয়
  10. জামালপুর
  11. জেলার সংবাদ
  12. ঝালকাঠি
  13. ঝিনাইদহ
  14. ঢাকা বিভাগ
  15. তথ্যপ্রযুক্তি
আজকের সর্বশেষ সবখবর

মঠবাড়িয়ায় সরকারি নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে চলছে চিংড়ির রেণু শিকার, ধ্বংস হচ্ছে শতাধিক প্রজাতির মাছের পোনা

পিরোজপুর প্রতিনিধি 
জুন ৫, ২০২৬ ৩:০৪ অপরাহ্ণ
Link Copied!

পিরোজপুর প্রতিনিধি 

পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলার বলেশ্বর নদীতে সরকারি নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে অব্যাহতভাবে চলছে বাগদা ও গলদা চিংড়ির রেণু (পোনা) আহরণ। এতে নির্বিচারে ধ্বংস হচ্ছে শতাধিক প্রজাতির দেশীয় মাছ ও জলজ প্রাণীর পোনা। এ কার্যক্রমকে ঘিরে গড়ে উঠেছে কোটি টাকার অবৈধ বাণিজ্যচক্র বা সিন্ডিকেট। সংশ্লিষ্টদের দাবি, কোস্ট গার্ড ও মৎস্য বিভাগের নিয়মিত অভিযান থাকলেও কার্যকরভাবে বন্ধ হচ্ছে না এই পরিবেশবিধ্বংসী কর্মকাণ্ড।

মৎস্য বিভাগ সূত্রে জানা যায়, ২০০০ সালে সরকার চিংড়ির রেণু আহরণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করলেও অনেক এলাকায় তা এখনও অব্যাহত রয়েছে। মাঠপর্যায়ে অভিযান ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হলেও বাস্তব চিত্র ভিন্ন বলে অভিযোগ রয়েছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলার বড়মাছুয়া ইউনিয়নের স্টিমারঘাট এলাকা, আমড়াগাছিয়া ইউনিয়নের সাংরাইল এলাকা এবং সাপলেজা ইউনিয়নের খেতাছিড়া এলাকায় প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ চিংড়ির রেণু সংগ্রহ করা হচ্ছে। সংগৃহীত এসব রেণু স্থানীয় আড়তদারদের মাধ্যমে খুলনা, বাগেরহাট, সাতক্ষীরাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের চিংড়ি খামারে পাঠানো হচ্ছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দিন-রাত পালাক্রমে বিভিন্ন বয়সী মানুষ, এমনকি নারী ও শিশুরাও নদীতে নেমে রেণু সংগ্রহ করছেন। তারা নদী ও খালের মোহনায় মশারির জাল ব্যবহার করে বাগদা ও গলদা চিংড়ির পোনা ধরেন। পরে এসব পোনা স্থানীয় মহাজন ও আড়তদারদের কাছে বিক্রি করা হয়।

স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেন, একটি চিংড়ির পোনা ধরতে গিয়ে শতাধিক অন্যান্য মাছের পোনা ও জলজ প্রাণী নষ্ট হয়ে যায়। ফলে নদীর জীববৈচিত্র্য মারাত্মক হুমকির মুখে পড়ছে। সচেতনতা ও বিকল্প পদ্ধতি ব্যবহার করলে এ ক্ষয়ক্ষতি অনেকাংশে কমানো সম্ভব বলে তারা মনে করেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক জেলে জানান, স্থানীয় মহাজনরা পোনা সংগ্রহকারীদের কাছ থেকে প্রতিটি রেণু ১ থেকে ২ টাকা দরে কিনে নেন। পরে আড়তদাররা সেগুলো ৫ থেকে ৭ টাকা দরে বিভিন্ন চিংড়ি খামার মালিকের কাছে বিক্রি করেন। এ ব্যবসার সঙ্গে একটি বড় চক্র জড়িত বলে তিনি দাবি করেন।

উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মোজাম্মেল হক বলেন, “অপরিকল্পিতভাবে চিংড়ির পোনা আহরণের ফলে সাময়িকভাবে কিছু দরিদ্র মানুষ উপকৃত হলেও এতে অন্যান্য প্রজাতির মাছের পোনা ব্যাপকভাবে ধ্বংস হচ্ছে। এটি জলজ পরিবেশ ও মৎস্যসম্পদের জন্য বড় হুমকি। যারা এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে জনবল সংকটের কারণে অভিযান পরিচালনায় কিছুটা সীমাবদ্ধতা রয়েছে।”

স্থানীয় পরিবেশবাদী ও সচেতন মহল বলেশ্বর নদী ও উপকূলীয় অঞ্চলের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় নিয়মিত অভিযান, কঠোর নজরদারি এবং বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।