গোয়ালন্দ (রাজবাড়ী) প্রতিনিধি
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার উজানচর ইউনিয়নে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে কুপিয়ে গুরুতর আহত জাহাঙ্গীর মল্লিক (৩৭) বর্তমানে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলার পরও আসামিদের গ্রেফতার না হওয়ায় এবং উল্টো হুমকি-ধমকি দেওয়ায় বিপাকে পড়েছে ভুক্তভোগী পরিবার।
জানা যায়, প্রায় দেড় মাস আগে ছাগলে ঘাস খাওয়াকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে ২৬ এপ্রিল মানিক ও আলমসহ ৮/৯ জন মিলে জাহাঙ্গীরের বাড়িতে হামলা চালায়। এ সময় চাইনিজ কুড়াল ও লাঠি দিয়ে তাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে ও পিটিয়ে গুরুতর আহত করা হয়।
আহত জাহাঙ্গীরকে প্রথমে ফরিদপুর ও পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তিনি বাড়িতে চিকিৎসাধীন থাকলেও তার শারীরিক অবস্থার কোনো উন্নতি হয়নি বলে পরিবার দাবি করেছে।
ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, মামলার ৯ আসামির মধ্যে ৭ জন ইতিমধ্যে জামিনে মুক্ত রয়েছে। বাকি ১ ও ২ নম্বর আসামি প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ালেও পুলিশ তাদের গ্রেফতার করছে না। বরং আসামিরা মামলা তুলে নিতে পরিবারকে বিভিন্নভাবে হুমকি দিচ্ছে বলেও অভিযোগ করা হয়।
শনিবার (৬ জুন) সকালে গোয়ালন্দ শহীদ মহিউদ্দিন আনসার ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ ও দাবি তুলে ধরেন ভুক্তভোগী পরিবার।
সংবাদ সম্মেলনে আহত জাহাঙ্গীর, তার মা, বোন, স্ত্রী এবং মামলার বাদীসহ পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
অন্যদিকে মামলার ১ নম্বর আসামি মানিক মোল্লা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, জাহাঙ্গীর মাদক সেবনের সঙ্গে জড়িত এবং তাকে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করেই এ ঘটনার সূত্রপাত হয়।
গোয়ালন্দ ঘাট থানার ওসি শফিকুল ইসলাম বলেন, মামলার ৯ আসামির মধ্যে ৭ জন জামিনে রয়েছেন এবং ১ ও ২ নম্বর আসামি পলাতক। তাদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। ভিকটিমের চিকিৎসা ও ন্যায়বিচারের বিষয়ে পুলিশ আন্তরিকভাবে কাজ করছে।

