মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি
মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলায় সোহেল মুন্সী (৩৯) নামে এক ভাঙারি ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। হত্যাকাণ্ডের পর তার ব্যবহৃত মোটরসাইকেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। বৃহস্পতিবার (১৯ জুন) ভোররাতের আগে উপজেলার গাঁওদিয়া ইউনিয়নের কালুরগাঁও গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত সোহেল মুন্সী কালুরগাঁও গ্রামের মৃত ইসমাইল মুন্সীর ছেলে।
স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, রাতে খাবার খেয়ে বাড়ির পূর্ব পাশের একটি ঘরে একাই ঘুমাতে যান সোহেল। তার স্ত্রী নুপুর বেগম সম্প্রতি সন্তান প্রসব করায় তিনি শাশুড়ি সেফালি বেগমের সঙ্গে অন্য একটি ঘরে অবস্থান করছিলেন। গভীর রাতে বাড়ির উঠানে বিকট শব্দ শুনে ঘুম থেকে জেগে ওঠেন পরিবারের সদস্যরা। বাইরে এসে তারা দেখতে পান, সোহেলের মোটরসাইকেলটি আগুনে পুড়ছে। একই সঙ্গে উঠানে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায় সোহেলের মরদেহ।
প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, অজ্ঞাতপরিচয় দুর্বৃত্তরা সোহেলকে ঘর থেকে বাইরে ডেকে এনে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে হত্যা করে। তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে গভীর জখমের চিহ্ন পাওয়া গেছে। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয় বলে ধারণা করা হচ্ছে। পরে হত্যার আলামত নষ্ট বা আতঙ্ক সৃষ্টির উদ্দেশ্যে দুর্বৃত্তরা তার মোটরসাইকেলে আগুন দিয়ে পালিয়ে যায়।
স্থানীয়রা জানান, সোহেল সিডারচর এলাকা থেকে ভাঙারি মালামাল সংগ্রহ করে ব্যবসা করতেন। এছাড়া ২০২২ সালে বিদেশি মদসহ তিনি র্যাবের হাতে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন বলে জানা গেছে।
লৌহজং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. বোরহান উল ইসলাম বলেন, “খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে। মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার তদন্ত চলছে।”
মুন্সীগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. কামরান হোসেন বলেন, “হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ উদঘাটন এবং জড়িতদের শনাক্ত করতে পুলিশ কাজ শুরু করেছে। আশা করছি দ্রুত রহস্য উদঘাটন করা সম্ভব হবে।”
এ ঘটনায় এলাকায় শোক ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। নিহতের পরিবার ও স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

