নিজস্ব প্রতিবেদক, গাজীপুর
গাজীপুরের কালীগঞ্জে চাঞ্চল্যকর এক ক্লুলেস হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন করেছে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে একজন আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ২ জুন সকালে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ খবর পেয়ে কালীগঞ্জ থানার পুলিশ উপজেলার তুমুলিয়া ইউনিয়নের একটি বেড়িবাঁধ সড়ক থেকে অজ্ঞাত এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করে। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় নিহত ব্যক্তিকে সাইফুল ইসলাম (৪৮) হিসেবে শনাক্ত করা হয়। তিনি তুমুলিয়া ইউনিয়নের অলুয়া এলাকার বাসিন্দা।
এ ঘটনায় নিহতের বড় ভাই আব্দুস সালাম বাদী হয়ে কালীগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। অভিযোগে বলা হয়, ১ জুন রাত সাড়ে ৮টা থেকে ২ জুন সকাল সাড়ে ৬টার মধ্যে কোনো এক সময় দুর্বৃত্তরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে সাইফুল ইসলামকে গলা ও মুখমণ্ডলে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে হত্যা করে এবং পরিচয় গোপনের উদ্দেশ্যে মরদেহ বিকৃত করে ফেলে রাখে।
মামলার তদন্তের একপর্যায়ে গাজীপুরের পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় জেলা গোয়েন্দা পুলিশ তদন্ত শুরু করে। অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের নেতৃত্বে ডিবির একটি দল তথ্যপ্রযুক্তি ও স্থানীয় সূত্রের তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে মো. রেজাউল করিম (৫০), মো. নাঈম মিয়া (২৫) এবং মো. আবু তাহেরকে (৩২) গ্রেফতার করে।
গ্রেফতারকৃতদের আদালতে পাঠানো হলে আসামি আবু তাহের ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেন। পুলিশ জানিয়েছে, আসামি রেজাউলের বিরুদ্ধে মাদক মামলাসহ একাধিক মামলা বিচারাধীন রয়েছে।
তদন্তে জানা গেছে, মাদক সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে নিহত সাইফুল ইসলামের সঙ্গে রেজাউল করিমের দীর্ঘদিনের দ্বন্দ্ব ছিল। এ বিরোধের জেরে পূর্বপরিকল্পিতভাবে রেজাউল, নাঈম ও আবু তাহের সাইফুলকে নদীর তীরবর্তী একটি কলাবাগানের কাছে ডেকে নিয়ে যায়। পরে ২ জুন রাত আনুমানিক দেড়টার দিকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে হত্যা করা হয়।
হত্যার পর আসামিরা মরদেহটি কালীগঞ্জের বঙ্গবন্ধু বাজার-মিশন সড়কের পাশে জনৈক করিমের বাড়ির সামনে বেড়িবাঁধের রাস্তায় ফেলে রেখে যায় বলে তদন্তে উঠে এসেছে।
পুলিশ জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ আলামত উদ্ধার করা হয়েছে এবং মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

