কালীগঞ্জ (গাজীপুর) প্রতিনিধি
গাজীপুরের কালীগঞ্জে পরিবার পরিকল্পনা, বাল্যবিবাহ নিরোধ, মাদকবিরোধী সচেতনতা এবং গ্রাম আদালতের কার্যক্রম বিষয়ে এক সচেতনতামূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এটিএম কামরুল ইসলাম বলেছেন, গ্রাম আদালতের মাধ্যমে কম খরচে ও স্বল্প সময়ে স্থানীয় বিরোধ নিষ্পত্তি করা সম্ভব।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সকালে উপজেলা প্রশাসন ও বক্তারপুর ইউনিয়ন পরিষদের উদ্যোগে বেরুয়া ঈদগাহ মাঠে এ সভার আয়োজন করা হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন বক্তারপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আতিকুর রহমান আকন্দ ফারুক।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইউএনও এটিএম কামরুল ইসলাম বলেন, ইউনিয়ন পরিষদ স্থানীয় সরকারের সবচেয়ে তৃণমূল স্তর। গ্রাম আদালত ছোটখাটো বিরোধ দ্রুত ও সহজভাবে নিষ্পত্তির একটি কার্যকর ব্যবস্থা। তিনি জানান, আবেদনকারী ও প্রতিপক্ষ থেকে দুজন করে চারজন সদস্য এবং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানকে নিয়ে পাঁচ সদস্যের গ্রাম আদালত গঠিত হয়। নারীর স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট বিষয়ে নারী সদস্যের অন্তর্ভুক্তি বাধ্যতামূলক।
তিনি আরও বলেন, মাদক কোনো সমস্যার সমাধান নয়, বরং এটি ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজকে ধ্বংস করে। তাই মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। এছাড়া বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন, ২০১৭-এর বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টি করে তিনি বলেন, ১৮ বছরের নিচে কোনো মেয়ের বিয়ে দেওয়া উচিত নয় এবং এ বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর গাজীপুরের উপপরিচালক আবু তাহের মো. সানাউল্লাহ নূরী, কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাকির হোসেন, উপজেলা প্রকৌশলী মো. রেজাউল হক, উপজেলা তথ্যসেবা কর্মকর্তা সোহা তামান্না এবং উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা নাহিদা খাতুন।
উপজেলা মহিলা সংস্থার অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জেসমিন বেগমের সঞ্চালনায় ওসি মো. জাকির হোসেন বলেন, মাদক শুধু একজন মানুষকে নয়, একটি পরিবার ও সমাজকে ধ্বংস করে। তাই মাদকের বিরুদ্ধে লড়াই মানেই নিজের ভবিষ্যৎ রক্ষার লড়াই।
সভাপতির বক্তব্যে চেয়ারম্যান মো. আতিকুর রহমান আকন্দ ফারুক বলেন, গ্রাম আদালতে দেওয়ানি ও ফৌজদারি—উভয় ধরনের ছোটখাটো বিরোধ নিষ্পত্তি করা যায়। এখানে আইনজীবীর প্রয়োজন হয় না। দেওয়ানি মামলার জন্য ২০ টাকা এবং ফৌজদারি মামলার জন্য ১০ টাকা ফি নির্ধারিত রয়েছে।
এ সময় উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

