আগৈলঝাড়া (বরিশাল) প্রতিনিধি
বরিশালের আগৈলঝাড়া থানায় হামলা ও পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় আগৈলঝাড়া প্রেসক্লাবের দুই সাংবাদিককে আসামি করায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে আগৈলঝাড়া প্রেসক্লাব। একই সঙ্গে ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং সংবাদ সংগ্রহে যাওয়া সাংবাদিকদের হয়রানি না করার দাবি জানিয়েছেন তারা।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, এ ঘটনায় ৪৩ জনের নাম উল্লেখ করে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলায় আগৈলঝাড়া প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ও বাংলা টিভির প্রতিনিধি এফ. এম. নাজমুল রিপনকে ২১ নম্বর এবং প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ও যুগান্তরের প্রতিনিধি সাইফুল ইসলামকে ২৩ নম্বর আসামি করা হয়েছে। মামলায় তাদের বিরুদ্ধে হামলাকারীদের উসকানি দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে।
শনিবার দুপুরে আগৈলঝাড়া প্রেসক্লাব মিলনায়তনে আয়োজিত প্রতিবাদ সভায় প্রেসক্লাবের সভাপতি মো. শামীমুল ইসলাম শামীমের সভাপতিত্বে বক্তব্য দেন সাবেক সভাপতি সরদার হারুন রানা, কে এম আজাদ রহমান, সাবেক সাধারণ সম্পাদক প্রবীর বিশ্বাস ননী, সহ-সভাপতি এইচ এম মাসুম, যুগ্ম সম্পাদক এল আর মানিক, সদস্য বরুন বাড়ৈ, মানিক হাওলাদার, স্বপন দাসসহ অন্যান্য সাংবাদিক।
বক্তারা বলেন, অভিযুক্ত দুই সাংবাদিক যদি শুধুমাত্র সংবাদ সংগ্রহের উদ্দেশ্যে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে থাকেন, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রকৃত সত্য উদঘাটন করা উচিত। তারা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন এবং তদন্তে সম্পৃক্ততা না পাওয়া গেলে মামলা থেকে তাদের অব্যাহতির দাবি জানান।
অভিযুক্ত সাংবাদিক এফ. এম. নাজমুল রিপন দাবি করেন, সম্প্রতি প্রকাশিত কয়েকটি সংবাদের জেরে তাকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মামলায় জড়ানো হয়েছে। অপর আসামি সাইফুল ইসলামও অভিযোগ করেন, ষড়যন্ত্রমূলকভাবে তাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। তিনি বলেন, “আমরা সবসময় প্রশাসনের পাশে থেকে সংবাদ প্রকাশের মাধ্যমে সহযোগিতা করেছি। তারপরও আমাদের নামে মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছে।”
এ বিষয়ে আগৈলঝাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাসুদ খান বলেন, ভিডিও ফুটেজ, প্রাথমিক তদন্ত এবং অন্যান্য তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে হামলাকারী ও উসকানিদাতাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। তিনি জানান, পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে একাধিক তদন্ত দল কাজ করছে। তদন্তে কেউ নির্দোষ প্রমাণিত হলে তাকে হয়রানি করা হবে না এবং আইনানুগভাবে মামলা থেকে অব্যাহতির ব্যবস্থা করা হবে।
প্রসঙ্গত, গত ৮ জুলাই রাতে একটি মামলার সন্দেহভাজন আসামি রিয়াজ ফকিরকে গ্রেপ্তার করে আগৈলঝাড়া থানা পুলিশ। পুলিশের দাবি, থানা হাজতে তিনি নিজেই মাথায় আঘাত করে অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তাকে আগৈলঝাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং পরবর্তীতে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
পরদিন রিয়াজ ফকির পুলিশের নির্যাতনে মারা গেছেন—এমন গুজব ছড়িয়ে পড়লে উত্তেজিত স্বজন ও স্থানীয় লোকজন থানায় গিয়ে হামলা, ভাঙচুর এবং কয়েকজন পুলিশ সদস্যকে মারধর করেন। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় পুলিশ ইতোমধ্যে নারী-পুরুষসহ ১৮ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। পরে তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

