আলফাডাঙ্গা (ফরিদপুর) প্রতিনিধি
ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গার আলোচিত কলেজছাত্র সুমন শেখ (২৫) হত্যা মামলার অন্যতম এজাহারভুক্ত ও দীর্ঘদিন পলাতক আসামি জনিপ শেখ (৪০)কে রাজধানীর ডেমরা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-১০। এর আগে একই মামলায় তার বাবা ও এজাহারভুক্ত আসামি কবির শেখকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে। ফলে আলোচিত এ হত্যা মামলায় বাবা-ছেলে দুজনই এখন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হেফাজতে রয়েছেন।
র্যাব-১০ সূত্রে জানা যায়, মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার অনুরোধে র্যাব-১০-এর সিপিসি-৩ (ফরিদপুর) ও সিপিসি-১ (যাত্রাবাড়ী) ক্যাম্পের একটি যৌথ আভিযানিক দল গোয়েন্দা নজরদারি এবং আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় বুধবার (২৯ জুলাই) সকালে ঢাকার ডেমরা থানার পশ্চিম ডগাইর এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় হত্যা মামলার পলাতক এজাহারভুক্ত আসামি জনিপ শেখকে গ্রেপ্তার করা হয়।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ২৬ জুন বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে কাশিয়ানীর উদ্দেশে যাওয়ার পথে আলফাডাঙ্গা উপজেলার টগরবন্দ ইউনিয়নের বড়ভাগ পূর্বপাড়া এলাকায় পূর্বশত্রুতার জেরে জনিপ শেখ ও তার সহযোগীরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে কলেজছাত্র সুমন শেখের ওপর হামলা চালায়। এতে গুরুতর আহত সুমনকে প্রথমে কাশিয়ানী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় নিহতের ভাই শামীম শেখ বাদী হয়ে জনিপ শেখসহ ১৭ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ২০ থেকে ২৫ জনকে আসামি করে আলফাডাঙ্গা থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার এজাহারে দীর্ঘদিনের গ্রাম্য ও দলীয় বিরোধকে হত্যাকাণ্ডের কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
মামলা দায়েরের পর থেকেই জনিপ শেখ আত্মগোপনে ছিলেন। পরে গোয়েন্দা তথ্য ও প্রযুক্তিগত অনুসন্ধানের মাধ্যমে তার অবস্থান শনাক্ত করে র্যাব। এরপর ডেমরা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
র্যাব-১০-এর সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার ও সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) তপন সরকার জানান, গোয়েন্দা তথ্য ও আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় হত্যা মামলার অন্যতম এজাহারভুক্ত আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। তিনি বলেন, অপরাধ দমনে র্যাবের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

