নরসিংদী প্রতিনিধি
নরসিংদী শহরের সি অ্যান্ড বি মোড় সংলগ্ন যমুনা প্রাইভেট হাসপাতালের বিভিন্ন অনিয়মের দায়ে এক লাখ টাকা জরিমানা করেছে জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালত। একই সঙ্গে বাংলাদেশ আণবিক শক্তি কমিশনের অনুমোদন ছাড়াই পরিচালিত হাসপাতালের এক্স-রে কক্ষ সিলগালা করে সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে পরিচালিত মোবাইল কোর্টে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
অভিযানকালে হাসপাতালটিতে একাধিক গুরুতর অনিয়ম ধরা পড়ে। পরিদর্শনে দেখা যায়, মেডিকেল অফিসারদের কোনো ডিউটি রোস্টার নেই। ল্যাব টেকনোলজিস্ট অনুপস্থিত থাকলেও তার ছুটির বৈধ কাগজপত্র বা পেশাগত সনদপত্র প্রদর্শন করা হয়নি। এ অবস্থায়ও রোগীদের নমুনা সংগ্রহ কার্যক্রম চলছিল।
এছাড়া আল্ট্রাসাউন্ড কক্ষের সামনে গর্ভস্থ সন্তানের লিঙ্গ প্রকাশ নিষিদ্ধ সংক্রান্ত হাইকোর্টের নির্দেশনা প্রদর্শিত হয়নি। অপারেশন থিয়েটারে অটোক্লাভ করা অস্ত্রোপচারের সরঞ্জাম খোলা অবস্থায় পাওয়া যায়। এক্স-রে কক্ষে প্রয়োজনীয় বিকিরণ প্রতিরোধী লিড সুরক্ষা ব্যবস্থা ছিল না এবং বাংলাদেশ আণবিক শক্তি কমিশনের অনুমোদন ছাড়াই এক্স-রে সেবা দেওয়া হচ্ছিল।
পরিদর্শনে আরও দেখা যায়, এনভিডি (NVD) কক্ষটি রোগীসেবার জন্য অনুপযুক্ত। ল্যাবে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ছিল অপর্যাপ্ত। একই রেফ্রিজারেটরে রি-এজেন্টের সঙ্গে অন্যান্য ওষুধ সংরক্ষণ করা হচ্ছিল। এছাড়া ল্যাবের নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে লবণ, হলুদ, মরিচের গুঁড়া, তেলের কৌটাসহ বিভিন্ন গৃহস্থালি সামগ্রী রাখা ছিল, যা স্বাস্থ্যবিধির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।
এসব অনিয়মের প্রেক্ষিতে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯ অনুযায়ী হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয় এবং তা আদায় করা হয়। পাশাপাশি অনুমোদনহীন এক্স-রে কক্ষটি সিলগালা করে সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়।
ভ্রাম্যমাণ আদালত হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করে জানায়, ভবিষ্যতে এ ধরনের অনিয়মের পুনরাবৃত্তি হলে আরও কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেন জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট সাদিয়া চৌধুরী। অভিযানে সার্বিক সহযোগিতা করেন নরসিংদী সিভিল সার্জনের কার্যালয়ের প্রতিনিধি ডা. মুন্নী সাহা।

