Nabadhara
ঢাকাসোমবার , ১০ আগস্ট ২০২৬
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. ইতিহাস
  5. কৃষি
  6. খুলনা বিভাগ
  7. খেলাধুলা
  8. চট্টগ্রাম বিভাগ
  9. জাতীয়
  10. জামালপুর
  11. জেলার সংবাদ
  12. ঝালকাঠি
  13. ঝিনাইদহ
  14. ঢাকা বিভাগ
  15. তথ্যপ্রযুক্তি
আজকের সর্বশেষ সবখবর

১১ শিক্ষক, পরীক্ষার্থীও ১১; পাস মাত্র একজন, তার নামও জানেন না প্রধান শিক্ষক

পিরোজপুর প্রতিনিধি
আগস্ট ১০, ২০২৬ ৭:৫৭ অপরাহ্ণ
Link Copied!

পিরোজপুর প্রতিনিধি

পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলার মৈশানী বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে এবারের এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে ১১ জন শিক্ষার্থী। এর মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে মাত্র একজন। অথচ বিদ্যালয়টিতে কর্মরত রয়েছেন ১১ জন শিক্ষক। এমন ফলাফলে প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষা কার্যক্রম নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে দেখা দিয়েছে নানা প্রশ্ন ও হতাশা।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫ সালেও প্রতিষ্ঠানটির ফলাফল ছিল প্রায় একই রকম। ওই বছর আটজন শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে মাত্র একজন উত্তীর্ণ হয়েছিল।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যালয়টির শিক্ষার মান নিয়ে নানা প্রশ্ন থাকলেও পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়নি। বিদ্যালয়ের নথিতে অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী থাকলেও নিয়মিত শ্রেণিকক্ষে উপস্থিতির সংখ্যা অনেক কম। স্থানীয়দের দাবি, প্রতিদিন গড়ে পাঁচ থেকে ছয়জন শিক্ষার্থীকে বিদ্যালয়ে দেখা যায়। শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি এবং নিয়মিত পাঠদান নিয়েও রয়েছে নানা প্রশ্ন।

সমুদয়কাঠি ইউনিয়নে অবস্থিত বিদ্যালয়টি এক যুগেরও বেশি সময় ধরে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দিয়ে পরিচালিত হয়ে আসছে। দীর্ঘ সময়েও শিক্ষার মান কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে উন্নীত না হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে।

বিদ্যালয় অফিসের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ১১ জন শিক্ষক ছাড়াও একজন অফিস সহকারী ও একজন চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী রয়েছেন। সব মিলিয়ে শিক্ষক-কর্মচারীর সংখ্যা ১৩ জন। তাদের বেতন-ভাতা বাবদ প্রতি মাসে সরকারের তিন লাখ টাকার বেশি ব্যয় হয় বলে জানা গেছে।

এ অবস্থায় স্থানীয়দের প্রশ্ন, ১১ জন শিক্ষক থাকার পরও ১১ পরীক্ষার্থীর মধ্যে কেন মাত্র একজন পাস করল? শিক্ষার্থীদের নিয়মিত বিদ্যালয়ে উপস্থিত করা, পড়াশোনায় আগ্রহী করা এবং মানসম্মত পাঠদান নিশ্চিত করার দায়িত্ব বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কতটা—তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক পর্ষিয়া রানী হালদার বলেন, ‘এ বছর ১১ শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে। তাদের মধ্যে একজন পাস করেছে। এর আগের বছর আটজনের মধ্যে একজন পাস করেছিল।’

তবে পাস করা শিক্ষার্থীর নাম ও ফলাফল জানতে চাইলে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে জানাতে পারেননি। তিনি বলেন, ‘এখন মনে নেই, পরে জানাব।’

১১ জন শিক্ষক থাকার পরও ফলাফল এত খারাপ হওয়ার বিষয়ে দুঃখ প্রকাশ করেছেন কি না জানতে চাইলে প্রধান শিক্ষক বলেন, ‘দুঃখ কিসের। শিক্ষার্থীদের চেষ্টা করেও স্কুলে আনা যাচ্ছে না। তারা ঠিকমতো না পড়লে আমাদের দোষ কী?’

স্থানীয়রা বলছেন, শিক্ষার্থীদের নিয়মিত বিদ্যালয়ে উপস্থিত করা এবং পড়াশোনার প্রতি আগ্রহী করে তোলার ক্ষেত্রে শিক্ষক ও বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষেরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। তাই প্রতিষ্ঠানটির দীর্ঘদিনের ফলাফল, শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ও শিক্ষা কার্যক্রম খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

তাদের মতে, বিদ্যালয়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি, শ্রেণিকক্ষে পাঠদানের মান এবং সরকারি অর্থ ব্যয়ের বিষয়গুলো সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারির আওতায় আনা জরুরি। দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে বিদ্যালয়টিতে মানসম্মত শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।