সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি
বয়সের ভারে নুয়ে পড়েছেন বাবা। জীবনের শেষ সময়ে একমাত্র ছেলেকে ঘিরেই ছিল তাঁর স্বপ্ন। ছেলের ভালোবাসা ও যত্নে বাকি জীবনটা সুখে-শান্তিতে কাটাবেন—এমন প্রত্যাশা ছিল তাঁর। কিন্তু সেই স্বপ্ন এখন দুঃস্বপ্নে পরিণত হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন সিরাজগঞ্জের কাজিপুর উপজেলার হরিনাথপুর দক্ষিণপাড়ার বৃদ্ধ মোকতাল হোসেন ও তাঁর স্ত্রী জোহেরা খাতুন।
একমাত্র ছেলের বিরুদ্ধে নির্যাতন, ভরণপোষণ না দেওয়া এবং দেখভালে বাধা দেওয়ার অভিযোগ তুলে প্রশাসনের সহযোগিতা চেয়েছেন ওই বৃদ্ধ দম্পতি।
মোকতাল হোসেনের এক ছেলে ও দুই মেয়ে। দুই মেয়েকেই বিয়ে দিয়েছেন তিনি। জীবনের শেষ সময়ে একমাত্র ছেলে জাহিদুল ইসলামই ছিলেন তাঁর ভরসা। সংসার জীবনে প্রতিবছর জমি কিনে তিলে তিলে সম্পদ গড়ে তোলেন মোকতাল। সেই সম্পদের বড় একটি অংশ ভালোবেসে পর্যায়ক্রমে একমাত্র ছেলে জাহিদুলের নামে লিখে দেওয়ার পর তাঁর আচরণে পরিবর্তন আসে বলে অভিযোগ বাবা-মায়ের।
তাদের অভিযোগ, এখন ছেলে তাদের ভরণপোষণ করেন না, এমনকি দেখভাল করতেও বাধা দেওয়া হচ্ছে। বাবা-মায়ের পাশে দাঁড়াতে গেলে দুই মেয়েকেও ভয়ভীতি দেখানো হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
মোকতাল হোসেনের অভিযোগ, গত ১৪ আগস্ট তাঁর জমি দখল করতে গেলে তিনি বাধা দেন। এ সময় ছেলের সঙ্গে ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে তিনি আহত হন। পরে কাজিপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফেরেন তিনি।
মোকতালের মেয়ে জনি খাতুন বলেন, ‘বাবার সম্পদ পেয়েই বড় ভাই কোটিপতি হয়েছেন। অথচ এখন সেই বাবা-মায়ের ভরণপোষণ করেন না। বাবা-মাকে নানাভাবে নির্যাতন করা হচ্ছে। আমরা বাবা-মায়ের দায়িত্ব নিতে চাইলে আমাদের ভয়ভীতি দেখানো হয় এবং মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর হুমকি দেওয়া হয়।’
তবে বাবা-মায়ের করা এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন জাহিদুল ইসলাম। তাঁর দাবি, তাঁর বাবা-ই তাঁকে মারধর করেছেন। দুই বোনের প্ররোচনায় বাবা-মা তাঁকে সম্পদ থেকে বঞ্চিত করছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
এ ঘটনায় গত ১৬ আগস্ট জাহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে কাজিপুর থানায় অভিযোগ করেন তাঁর মা জোহেরা খাতুন।
কাজিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুর রাজ্জাক বলেন, জোহেরা খাতুনের অভিযোগটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) হিসেবে রেকর্ড করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

