রুয়েট প্রতিনিধি
রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) সীমানাপ্রাচীর ভেঙে বিশ্ববিদ্যালয়ের মালিকানাধীন জমিতে প্রায় ১৫ বছর আগে নির্মিত পাবলিক টয়লেটসহ অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের দাবি জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। তাদের অভিযোগ, তৎকালীন রাজনৈতিক প্রভাব ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তার সুযোগে এসব স্থাপনা নির্মাণ করা হয়।
শিক্ষার্থীরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে রুয়েটের সীমানাপ্রাচীরের একটি অংশ ভেঙে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব জমি দখল করে স্থাপনাটি বহাল রয়েছে। বর্তমানে এর পাশেই পুরকৌশল অনুষদের ১০ তলা একাডেমিক ভবনের নির্মাণকাজ চলছে। এতে শিক্ষার পরিবেশ, স্বাস্থ্যবিধি, নিরাপত্তা ও ক্যাম্পাসের নান্দনিকতা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, স্থাপনাটি রুয়েটের প্রাতিষ্ঠানিক সীমানার ভেতরে অবস্থিত। শিক্ষার্থীদের ভাষ্য, জনসাধারণের সুবিধার্থে পাবলিক টয়লেট নির্মাণের প্রয়োজন থাকলেও বিশ্ববিদ্যালয়ের সীমানাপ্রাচীর ভেঙে ক্যাম্পাসের নিজস্ব জমিতে স্থাপনা নির্মাণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
এদিকে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পরও স্থাপনাটি অপসারণ না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন শিক্ষার্থীরা। তাদের অভিযোগ, তৎকালীন প্রশাসনের উদাসীনতার কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের জমিতে যে দখল প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও তার সমাধান হয়নি।
রুয়েটের পরিকল্পনা ও উন্নয়ন দপ্তরের পরিচালক অধ্যাপক ড. এইচ. এম. রাসেল বলেন, “বিগত ফ্যাসিস্ট সরকার রুয়েটের সীমানাপ্রাচীর ভেঙে বিশ্ববিদ্যালয়ের জমিতে এ ধরনের অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ করেছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক ও অনভিপ্রেত। এটি ক্যাম্পাসের পরিচ্ছন্নতা, নিরাপত্তা ও নান্দনিকতার পরিপন্থী। নির্মাণাধীন ১০ তলা ফ্যাকাল্টি ভবনের একেবারে পাশেই পাবলিক টয়লেট থাকায় শিক্ষক-শিক্ষার্থী সবার জন্যই বিষয়টি বিব্রতকর। বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বার্থে এমন অবৈধ স্থাপনা দ্রুত অপসারণ ও জমি পুনরুদ্ধারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।”
ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মিরাত শাফিন তুর্য্য বলেন, “জনসাধারণের জন্য পাবলিক টয়লেট নির্মাণ করা যেতে পারে, তবে সেটি কখনোই বিশ্ববিদ্যালয়ের সীমানাপ্রাচীর ভেঙে নয়। রুয়েটের জমি দখল করে এসব স্থাপনা নির্মাণ সম্পত্তির অবৈধ ব্যবহার। পাশাপাশি সীমানা ঘেঁষে থাকা ভ্রাম্যমাণ দোকানগুলোও চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি করছে এবং ক্যাম্পাসের সৌন্দর্য নষ্ট করছে।”
শিক্ষার্থীরা জনসাধারণের প্রয়োজনে উপযুক্ত ও বিকল্প স্থানে পাবলিক টয়লেট নির্মাণের পাশাপাশি রুয়েটের মেইন গেটসংলগ্ন ভ্রাম্যমাণ দোকান ও সীমানাপ্রাচীর ঘেঁষে গড়ে ওঠা অন্যান্য অবৈধ স্থাপনাও অপসারণের দাবি জানিয়েছেন।
তাদের দাবি, বিশ্ববিদ্যালয়ের জমি ও সীমানা রক্ষায় প্রশাসনকে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। একই সঙ্গে কীভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের জমিতে এসব স্থাপনা নির্মাণের সুযোগ তৈরি হয়েছিল, তা খতিয়ে দেখে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া এবং অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের মাধ্যমে জমি পুনরুদ্ধার করার দাবি জানিয়েছেন তারা।

