ফরিদপুর প্রতিনিধি
ফরিদপুর শহরের রথখোলা এলাকায় স্বামীর বাড়িতে স্ত্রীর স্বীকৃতির দাবিতে অনশন করছেন মৌ রবি দাস (পূর্বের নাম সোহাগী আক্তার) নামে এক তরুণী। তার দাবি, মোবাইল ফোনে প্রেমের সম্পর্কের পর বরুণ রবি দাস তাকে বিয়ে করে দীর্ঘদিন স্বামী-স্ত্রী হিসেবে সংসার করেছেন। তবে বর্তমানে তিনি বিয়ের কথা অস্বীকার করে তাকে স্ত্রীর স্বীকৃতি দিতে চাইছেন না।
রোববার দুপুরে রথখোলা এলাকায় বরুণ রবি দাসের বাড়িতে গিয়ে মৌ রবি দাসকে অনশনরত অবস্থায় দেখা যায়।
মৌ রবি দাসের দাবি, তিনি ফরিদপুরের রথখোলা এলাকার বাসিন্দা সুনিল রবি দাসের ছেলে বরুণ রবি দাসের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে জড়ান। বিয়ের আগে নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে ধর্মান্তরের এফিডেভিট করা হয়। এফিডেভিটের রেজিস্ট্রেশন নম্বর ১৭, তারিখ ১০ জানুয়ারি ২০২৪। এরপর একই দিন তাকে একটি মন্দিরে নিয়ে বিয়ে করা হয় বলে দাবি করেন তিনি।
মৌ জানান, বিয়ের পর বরুণ তাকে বিভিন্ন এলাকায় বাসা ভাড়া নিয়ে প্রায় এক বছর স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে সংসার করেছেন। এ সময় তার কাছ থেকে প্রায় আট লাখ টাকার স্বর্ণালংকার নেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
স্ত্রীর স্বীকৃতি না পাওয়ায় মৌ রবি দাস ফরিদপুরের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ১ নম্বর আমলি আদালতে বরুণ রবি দাসের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। আদালত মামলাটি তদন্ত করে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানান তিনি।
মৌ রবি দাস আরও অভিযোগ করেন, বরুণের বাড়িতে স্ত্রীর স্বীকৃতির দাবিতে আসার পর বরুণের মা ও ভাই তাকে মারধর ও নির্যাতন করেছেন। তিনি বলেন, “আমি কোনো অবস্থাতেই এই বাড়ি ছেড়ে যাব না। স্ত্রীর স্বীকৃতি না পাওয়া পর্যন্ত এখানেই থাকব।”
এ বিষয়ে বরুণ রবি দাসের মায়ের সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, “বরুণ ওকে নিয়ে ঘর-সংসার করবে কি করবে না, সেটা বরুণের বিষয়। এ ব্যাপারে আমার কোনো মতামত নেই।”
অভিযোগের বিষয়ে বরুণ রবি দাস বলেন, “আমি একটি এনজিওতে চাকরি করি। সোহাগী নামের মেয়েটি আমাকে ফাঁসিয়ে ব্ল্যাকমেইল করছে এবং আট লাখ টাকা দাবি করছে। তার করা এফিডেভিটও ভুয়া।”
এ ঘটনায় দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি দাবির মধ্যে আদালতের নির্দেশে পুলিশি তদন্তের পর প্রকৃত ঘটনা ও অভিযোগের সত্যতা কতটুকু, তা নিশ্চিত হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

