ত্রিশাল (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি
ময়মনসিংহের ত্রিশালে জমি ও বসতবাড়ির জায়গা নিয়ে বিরোধের জেরে ৭৫ বছর বয়সী এক বৃদ্ধাকে মারধর, গালাগাল ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে পোল্ট্রি ফার্ম ও গরুর গোয়ালঘরের বর্জ্য এবং টয়লেটের দূষিত পানি জমিতে ছেড়ে ফসল নষ্ট ও জলাবদ্ধতা সৃষ্টির অভিযোগও করেছেন ভুক্তভোগী মোছা. জাহারা খাতুন।
এ ঘটনায় নিজের ও পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা চেয়ে ত্রিশাল থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন তিনি।
জাহারা খাতুন উপজেলার রামপুর ইউনিয়নের চক রামপুর বাজার সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দা। তাঁর স্বামী মৃত আব্দুল মালেক। থানায় দেওয়া অভিযোগে গোলাম মোস্তফা (৬০), মোতালেব (৩৮), মতাছান (৩৫), হাবিবুর রহমান (৩২)-সহ কয়েকজনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
অভিযোগে বলা হয়, বসতবাড়ির পাশের জায়গা-সম্পত্তি নিয়ে অভিযুক্তদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছে। এ বিরোধকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন সময় জাহারা খাতুন ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের গালাগাল, মারধর এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে। স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করা হলেও কোনো সমাধান হয়নি।
জাহারা খাতুনের অভিযোগ, অভিযুক্তদের পোল্ট্রি ফার্ম ও গরুর গোয়ালঘরের বর্জ্য এবং টয়লেটের বিষ্ঠাযুক্ত দূষিত পানি তাঁর জমিতে ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে। এতে জমির ফসল নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি বসতবাড়ির আশপাশে পানি জমে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে।
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, গত ১৫ আগস্ট দুপুর আনুমানিক ২টার দিকে চক রামপুর বাজারে জয়নাল মাইন উদ্দিনের ফার্মেসির সামনে রাস্তার ওপর জাহারা খাতুনের ছেলে মো. সেলিম মিয়াকে মারধর করা হয়। এতে তাঁর শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত লাগে।
এ সময় মোহাম্মদ মিয়া (৫০), হুমায়ুন কবির (৪০) ও সোহেল মিয়া (৩৮) এগিয়ে এলে তাঁদেরও মারধর করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন জাহারা খাতুন।
জাহারা খাতুন বলেন, “জীবনের শেষ বয়সে এসে শান্তিতে থাকতে চাই। জমি নিয়ে বিরোধ থাকতেই পারে, কিন্তু মারধর ও হুমকি দিয়ে আমাদের ভয় দেখানো হচ্ছে। এখন আমি ও আমার পরিবারের লোকজন নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।”
তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি নিজের ও পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশের সহযোগিতা কামনা করেন।
এ বিষয়ে ত্রিশাল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ওয়াসিম মির্জা বলেন, “জাহারা খাতুন বাদী হয়ে থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন। তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

